ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের বছরে পদ্মার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার তাগিদ জাতিসংঘে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের নতুন দায়িত্ব ৫ বছরেও শেষ হয়নি কয়রার কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ সাতক্ষীরায় ট্রাকে পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী একমি কর্মকর্তার মৃত্যু দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ পর্যটনে অপার সম্ভাবনা থাকলেও আয়ের মুখ দেখছে না বাংলাদেশ এথেন্সে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, চার মার্কিন পর্যটকসহ নিহত ৬ ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর, আটক ২ মাউন্ট এতনা থেকে ৪ কিমি উচ্চতায় ছাই, ইতালিতে রেড অ্যালার্ট মৌলভীবাজারে পাহাড় কেটে অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি, বিপন্ন পরিবেশ

সৌদি আরবের পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান, হুথিদের হামলা মোকাবিলায় নতুন জোট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক আক্রমণ সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এই সংকটময় মুহূর্তে সৌদি আরবের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। রিয়াদ ও কায়রো থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশ তিনটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সম্মিলিতভাবে সব কটি দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এই নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক ডাকার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি, পাকিস্তানি ও তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র অধীনে বৈঠক করেছেন। তারা সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দেশটির আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেছেন। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতি দেশটির সেনাদের ইরান-সমর্থিত এই শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হুথিরা বৃহস্পতিবার সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে পবিত্র নগরী মক্কা, জেদ্দা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুথিদের এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, হুথিরা তাদের কাজের জন্য নিজেরাই দায়ী এবং তাদের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ইরান অবশ্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তেহরানের দাবি, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সাত দিনের মধ্যে সংঘাত বন্ধ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিয়ে জব্দ করা অর্থ ও তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করলে তবেই হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংঘাতের এই আবহে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৌশলগতভাবে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই বৃহত্তর যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে।

ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। হুথিরা লোহিত সাগরের মুখে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করছে, আর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল সীমিত করে দিয়েছে—যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল রপ্তানি হতো। ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ার হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপ

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি আরবের পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান, হুথিদের হামলা মোকাবিলায় নতুন জোট

আপডেট সময় : ১১:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক আক্রমণ সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এই সংকটময় মুহূর্তে সৌদি আরবের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। রিয়াদ ও কায়রো থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশ তিনটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সম্মিলিতভাবে সব কটি দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এই নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক ডাকার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি, পাকিস্তানি ও তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র অধীনে বৈঠক করেছেন। তারা সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দেশটির আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেছেন। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতি দেশটির সেনাদের ইরান-সমর্থিত এই শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হুথিরা বৃহস্পতিবার সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে পবিত্র নগরী মক্কা, জেদ্দা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুথিদের এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, হুথিরা তাদের কাজের জন্য নিজেরাই দায়ী এবং তাদের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ইরান অবশ্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তেহরানের দাবি, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সাত দিনের মধ্যে সংঘাত বন্ধ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিয়ে জব্দ করা অর্থ ও তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করলে তবেই হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংঘাতের এই আবহে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৌশলগতভাবে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই বৃহত্তর যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে।

ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। হুথিরা লোহিত সাগরের মুখে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করছে, আর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল সীমিত করে দিয়েছে—যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল রপ্তানি হতো। ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ার হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপ

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin