ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নামফলকে নিজের নাম দেখে উদ্বোধন না করেই ফিরলেন এমপি হাসনাত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘে রাশিয়ার কড়া বার্তা যশোরের চৌগাছায় পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের মামা-ভাগিনার মৃত্যু বাংলা কিউআরে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ, বিএনপি নেতা জড়িত ঢাকার ৩৫ এলাকায় ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি, অক্টোবরে বাড়তে পারে প্রকোপ জানুয়ারিতে সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রাজপুত্রের দেহাবশেষ পাঠানোর নেপথ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৩ অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির গাজায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই, জানাল বোর্ড অব পিস

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে থ্রি-আর কৌশল তুলে ধরলেন তারেক রহমান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ৩৮ আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ১৬

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৬টায় অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তার সরকারের গৃহীত 'থ্রি-আর' কৌশল বা পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল এবং পুনর্গঠন (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি ও টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে এবং পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

তারেক রহমান তার ভাষণের শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি একাত্তরের শহীদ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, তারাও অতীতে দেশ ও জনগণের পক্ষে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন, আজ আমিও সেই ধারাবাহিকতায় একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশায় দাঁড়িয়েছি।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত এবং তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র উপায়। এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে এটি বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তিনি ক্লাইমেট জাস্টিস ও জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানান। নিজের সরকারের উদ্যোগ হিসেবে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহারের জন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা চাই না আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সরকার ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে তরুণরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে এবং জনগণ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা পাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে থ্রি-আর কৌশল তুলে ধরলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ৩৮ আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ১৬

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৬টায় অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তার সরকারের গৃহীত 'থ্রি-আর' কৌশল বা পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল এবং পুনর্গঠন (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি ও টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে এবং পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

তারেক রহমান তার ভাষণের শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি একাত্তরের শহীদ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, তারাও অতীতে দেশ ও জনগণের পক্ষে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন, আজ আমিও সেই ধারাবাহিকতায় একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশায় দাঁড়িয়েছি।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত এবং তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র উপায়। এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে এটি বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তিনি ক্লাইমেট জাস্টিস ও জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানান। নিজের সরকারের উদ্যোগ হিসেবে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহারের জন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা চাই না আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সরকার ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে তরুণরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে এবং জনগণ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা পাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh