ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে

সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: তদন্তে নামল পিবিআই, বাবুল ২ দিনের রিমান্ডে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিলেট নগরীর রায়নগরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সিলেট মহানগর পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত সপ্তাহে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে মামলার একমাত্র আসামি রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পিবিআইয়ের পক্ষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি মো. মুরসালিন এই আবেদনটি করেছিলেন। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর বাবুল মিয়াকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, আসামির আগের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং এই ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।

উল্লেখ্য, গত ১২ই আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার 'নিকুঞ্জ ভিলা'য় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে ঘাতকরা বাসায় ঢুকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় একই এলাকার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বাবুল প্রথমে দাবি করেছিল, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে সে একাই এই তিনটি খুন করেছে। তবে নিহতদের পরিবার এই বক্তব্যে আপত্তি জানালে পুলিশ তাকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেয়। সে সময় বাবুল তার বক্তব্য বদলে জানায়, টাকার লোভে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং লুট করা টাকা তার বাসার মালিককে ভাড়া বাবদ পরিশোধ করেছে। বাসার কেয়ারটেকারও নিশ্চিত করেছিলেন যে, ঘটনার দিন বিকেলে বাবুল ১৫ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করেছিল।

এদিকে নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবার শুরু থেকেই বাবুলকে একমাত্র অপরাধী হিসেবে মানতে নারাজ। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টি উল্লেখ করে তারা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী ও নিহতদের মেয়ে সেলিনা সুলতানা প্রকৃত নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করতে পুলিশের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানান এবং বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে সিলেট মহানগর পুলিশ মামলাটির তদন্ত কেবল বাবুল মিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল। গত ২০শে ডিসেম্বর বাবুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও তদন্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নগর পুলিশ। অবশেষে মামলাটি পিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পিবিআই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের সন্দেহসহ সব দিক মাথায় রেখে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: তদন্তে নামল পিবিআই, বাবুল ২ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট নগরীর রায়নগরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সিলেট মহানগর পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত সপ্তাহে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে মামলার একমাত্র আসামি রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পিবিআইয়ের পক্ষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি মো. মুরসালিন এই আবেদনটি করেছিলেন। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর বাবুল মিয়াকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, আসামির আগের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং এই ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।

উল্লেখ্য, গত ১২ই আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার 'নিকুঞ্জ ভিলা'য় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে ঘাতকরা বাসায় ঢুকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় একই এলাকার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বাবুল প্রথমে দাবি করেছিল, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে সে একাই এই তিনটি খুন করেছে। তবে নিহতদের পরিবার এই বক্তব্যে আপত্তি জানালে পুলিশ তাকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেয়। সে সময় বাবুল তার বক্তব্য বদলে জানায়, টাকার লোভে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং লুট করা টাকা তার বাসার মালিককে ভাড়া বাবদ পরিশোধ করেছে। বাসার কেয়ারটেকারও নিশ্চিত করেছিলেন যে, ঘটনার দিন বিকেলে বাবুল ১৫ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করেছিল।

এদিকে নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবার শুরু থেকেই বাবুলকে একমাত্র অপরাধী হিসেবে মানতে নারাজ। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টি উল্লেখ করে তারা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী ও নিহতদের মেয়ে সেলিনা সুলতানা প্রকৃত নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করতে পুলিশের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানান এবং বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে সিলেট মহানগর পুলিশ মামলাটির তদন্ত কেবল বাবুল মিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল। গত ২০শে ডিসেম্বর বাবুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও তদন্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নগর পুলিশ। অবশেষে মামলাটি পিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পিবিআই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের সন্দেহসহ সব দিক মাথায় রেখে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin