ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মাদকবিরোধী অভিযানে মার্কিন সামরিক হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: জাতিসংঘ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান দমনের নামে মার্কিন বাহিনী যে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করেন। তার মতে, এসব অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জলসীমায় ৬৮টি নৌযানে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ২২৩ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযানকে কথিত ‘নারকো-সন্ত্রাসী’দের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে, এসব অভিযান সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের অংশ। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদন মার্কিন প্রশাসনের এই যুক্তি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ড একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় নীতির অধীনে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী। প্রতিবেদনে মার্কিন নীতিনির্ধারক ও সামরিক নেতাসহ দায়ীদের বিচার এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযানগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সমুদ্রপথে মাদক পাচারের বড় অংশ কনটেইনার জাহাজের মাধ্যমে হয়, ছোট নৌযানে নয়। ফলে এই ধরনের সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে কোকেন জব্দের হারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ওভারডোজের প্রধান কারণ ফেন্টানাইল ও ওপিঅয়েড জাতীয় মাদক, যা ভেনেজুয়েলা থেকে সমুদ্রপথে আসে না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধরনের সামরিক অভিযানে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা) ব্যয় করা হয়েছে, যা ছোটখাটো অপরাধীদের দমনের নামে মূলত বড় অপরাধী চক্রের মূল হোতাদের ধরার প্রক্রিয়াকেই ব্যাহত করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদকবিরোধী অভিযানে মার্কিন সামরিক হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০২:২২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান দমনের নামে মার্কিন বাহিনী যে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করেন। তার মতে, এসব অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জলসীমায় ৬৮টি নৌযানে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ২২৩ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযানকে কথিত ‘নারকো-সন্ত্রাসী’দের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে, এসব অভিযান সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের অংশ। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদন মার্কিন প্রশাসনের এই যুক্তি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ড একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় নীতির অধীনে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী। প্রতিবেদনে মার্কিন নীতিনির্ধারক ও সামরিক নেতাসহ দায়ীদের বিচার এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযানগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সমুদ্রপথে মাদক পাচারের বড় অংশ কনটেইনার জাহাজের মাধ্যমে হয়, ছোট নৌযানে নয়। ফলে এই ধরনের সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে কোকেন জব্দের হারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ওভারডোজের প্রধান কারণ ফেন্টানাইল ও ওপিঅয়েড জাতীয় মাদক, যা ভেনেজুয়েলা থেকে সমুদ্রপথে আসে না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধরনের সামরিক অভিযানে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা) ব্যয় করা হয়েছে, যা ছোটখাটো অপরাধীদের দমনের নামে মূলত বড় অপরাধী চক্রের মূল হোতাদের ধরার প্রক্রিয়াকেই ব্যাহত করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin