ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতি তিন মাস পর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির তথ্য নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মোহাম্মদপুরে দুই গ্রুপের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ একজন কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে প্রবাসী বাঙালির জমজমাট দুর্গোৎসব ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের অগ্রবর্তী দল বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৪৫তম বিসিএস গেজেট থেকে বাদ পড়াদের শাহবাগে আত্মাহুতির হুমকি ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে চতুর্থ অর্থনীতি হচ্ছে ভারত নেত্রকোনায় দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে চীনের অভিজ্ঞতা নিতে চায় সরকার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত দ্বিতীয় চায়না-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ ও সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের যৌথ আয়োজনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় চীনও বিপুল জনসংখ্যার দেশ ছিল, কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে তারা সেই জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করে বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশেরও জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম যুবসমাজের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৮ কোটি মানুষের এই জনমিতিক সুবিধা একটি বড় সুযোগ। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যখন জনসংখ্যা কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তখন বাংলাদেশে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে।

এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাই দেশের প্রধান সম্পদ হতে পারে। সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেশটি কীভাবে বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে তা তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। বিশেষ করে শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চীনের সমন্বয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

মানবসম্পদের পাশাপাশি সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমিকেও বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের বিশাল এলাকায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্লু ইকোনমি ও সার্কুলার ইকোনমিকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত গবেষণায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে চীনের অভিজ্ঞতা নিতে চায় সরকার

আপডেট সময় : ০২:২২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত দ্বিতীয় চায়না-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ ও সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের যৌথ আয়োজনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় চীনও বিপুল জনসংখ্যার দেশ ছিল, কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে তারা সেই জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করে বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশেরও জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম যুবসমাজের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৮ কোটি মানুষের এই জনমিতিক সুবিধা একটি বড় সুযোগ। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যখন জনসংখ্যা কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তখন বাংলাদেশে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে।

এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাই দেশের প্রধান সম্পদ হতে পারে। সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেশটি কীভাবে বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে তা তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। বিশেষ করে শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চীনের সমন্বয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

মানবসম্পদের পাশাপাশি সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমিকেও বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের বিশাল এলাকায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্লু ইকোনমি ও সার্কুলার ইকোনমিকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত গবেষণায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh