৫৬ বছরের অভিনয় জীবনে নূতনের আক্ষেপ: স্বীকৃতি আজও অধরা
- আপডেট সময় : ১২:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

পর্দার আলোয় দীর্ঘ ৫৬টি বছর পার করেছেন অভিনেত্রী নূতন। তার ক্যারিয়ারের এই বিশাল যাত্রায় দর্শক ভালোবাসা দিলেও, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বীকৃতির খাতায় তার নাম যেন এক অসম্পূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি মাত্র একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন, তাও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রের জন্য। অথচ ‘নতুন প্রভাত’ দিয়ে শুরু করে ‘ওরা ১১ জন’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘রাজদুলারী’, ‘অলংকার’ ও ‘স্ত্রীর পাওনা’র মতো বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্রে তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নূতনের কণ্ঠে ঝরে পড়েছে তার দীর্ঘদিনের অভিমান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, চলচ্চিত্রে তাকে ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়নি। অভিনয়ের যে সামর্থ্য তার ছিল, তা মেলে ধরার সুযোগ তিনি খুব কম পেয়েছেন। নৃত্যের জন্য ডাক পেলেও, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার ভেতরের গল্পগুলো পর্দায় তুলে ধরার মতো পরিচালক খুব কমই ছিল।
নূতনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ও কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-কে ঘিরে। এই চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হওয়া সত্ত্বেও, যখনই এই সিনেমার অবদানের জন্য অন্যদের সম্মানিত করা হয়, বারবার তার নামটি বাদ পড়ে যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইতিহাসের অংশ হওয়া সত্ত্বেও কেন তার নাম বারবার কাটা যায় এবং কেন তিনি সম্মাননা থেকে বঞ্চিত হন।
এর আগেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আজীবন সম্মাননা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নূতন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ৫০টি সুবর্ণ বছর পার করার পর আজীবন সম্মাননা পাওয়ার জন্য আর কী ধরনের ‘অজানা’ যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়, সেই প্রশ্নও তিনি জুরি বোর্ডের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন। নূতনের মতে, ইন্ডাস্ট্রির নিয়মই এমন যে, মানুষ বেঁচে থাকতে তার খোঁজ নেয় না, কিন্তু মৃত্যুর পর বড় বড় ছবি ছাপিয়ে গুণগান গাওয়া হয়।
এত অবহেলা ও কষ্টের মাঝেও সিনেমার প্রতি নূতনের ভালোবাসা কমেনি। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গেই থাকতে চান। তবে তিনি চান, বেঁচে থাকতেই যেন তার শ্রম ও অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নূতনের এই আকুতি কেবল একটি ট্রফির জন্য নয়, বরং একজন শিল্পীর জীবদ্দশায় তার অবদানের যথাযথ স্বীকৃতির দাবি।



























