প্রতিবাদে পরিবহনমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ডিএপি’র মহাসচিব অ্যান্থনি লোক
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে কারাদণ্ডের অবশিষ্ট সময় নিজ বাসভবনে কাটানোর অনুমোদন দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির (ডিএপি) মহাসচিব অ্যান্থনি লোক। শনিবার এই ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তবে তার এই পদত্যাগের অর্থ সরকার থেকে ডিএপির সরে আসা নয়; দলের অন্যান্য মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা মন্ত্রিসভায় তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।
নাজিব রাজাক ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল সংশ্লিষ্ট মামলায় ৪ কোটি ২০ লাখ রিঙ্গিত আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের দায়ে সর্বোচ্চ আদালত তার কারাদণ্ড বহাল রেখেছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার ১২ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ছয় বছর করা হয়। বর্তমানে ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তার কারাদণ্ডের মেয়াদ রয়েছে। নাজিবের আইনজীবীরা তাকে কারাগারের পরিবর্তে নিজ বাসভবনে সাজা ভোগের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাজিবের গৃহবন্দিত্বের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ডিএপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর অ্যান্থনি লোক স্পষ্ট করেছেন যে, কারাগারের পরিবর্তে বাসায় সাজা ভোগের এই সিদ্ধান্ত তাদের দলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে জোটের অন্য কয়েকটি দল বিষয়টিকে রাজার সাংবিধানিক ক্ষমতার অংশ হিসেবে দেখছে। এদিকে, সাবেক আমলাদের সংগঠন জি-২৫ এই সিদ্ধান্তের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের লিখিত মতামতসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
নাজিবের গৃহবন্দিত্বের শর্তের মধ্যে ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, নাজিবের অনেক সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় থাকায় সেগুলো তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই, যা জরিমানার অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমন রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা অবস্থায় পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা এলেও ডিএপি জানিয়েছে, তারা আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ঐক্য সরকারের অংশ হিসেবে কাজ করে যাবে এবং পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও চলমান প্রকল্পগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

























