ইসরাইলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক ও উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ১১:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ০৪। ইসরাইলের আসন্ন ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলছে। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগের পর থেকে বিষয়টি ইসরাইলি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণার উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ের রাজনৈতিক উত্তেজনাও দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনীতিক ইয়াইর গোলানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর আনা অভিযোগটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গোলান ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলার সময় দক্ষিণ ইসরাইলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। যদিও অভিযোগটি প্রমাণিত নয় এবং নেতানিয়াহু এ সংক্রান্ত আরেকটি পৃথক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও এটি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলছে।
পশ্চিম তীরের পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনও ইসরাইলের রাজনৈতিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৩ সালের পর থেকে সেখানে প্রায় ২৫০টি নতুন বসতি ও অবৈধ আউটপোস্ট গড়ে উঠেছে। বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনি বসতিতে হামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগের কারণে ফিলিস্তিনি জনবসতিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগও নিয়মিত উঠছে।
ইসরাইলি বসতি-সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগটিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এই নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাব বসতি স্থাপনকারীদের পরিবর্তে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর পড়তে পারে। এছাড়া গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে ইসরাইলের রাজনৈতিক মেরুকরণ এতটাই তীব্র যে অনেকে একে দেশটির 'শেষ নির্বাচন' হিসেবেও অভিহিত করছেন। নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী সরকারের নীতি কী হবে তা অনিশ্চিত। অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গাজা যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে ২৭ অক্টোবরের ভোট ইসরাইলের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


























