তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়: নাহিদ
- আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এমন আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি গুমের অভিযোগের সঠিক তদন্ত না হওয়া, বিরোধী মত দমনে আইন প্রয়োগ, মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণের মানবাধিকারের বিপক্ষে গিয়ে সরকার এসব আইন পাস করছে, যা সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে মানবাধিকার হরণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়াই করেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ সময় তিনি মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, পাঁচ মাস পার হলেও তার কোনো খোঁজ মিলছে না। তিনি অভিযোগ করেন, মিরাজ শেখের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি এবং সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান না থাকলেও, একজন নাগরিককে গুম করার মতো মৌলিক অধিকার হরণের ঘটনার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার।
গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর ও সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার বিষয়টিকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, সমালোচনা বা মিম তৈরি করা সন্ত্রাস নয়, কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মাধ্যমে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার বন্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কিশোর আলিফের চোখ হারানোর ঘটনার মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গুমের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হলে তা কার্যকর হবে না। এছাড়া অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর শাস্তির বিধান রাখায় মানুষ গুমের অভিযোগ করতে ভয় পাবে। সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইলিয়াস আলীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করলেও এখন সরকারে থেকে জাতীয় পর্যায়েও কোনো কার্যকর তদন্ত হতে দিচ্ছে না।
তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না, বরং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতীয় ঐক্যের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় ঐক্য দেখিয়েছিলেন, কিন্তু তারেক রহমান তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি তারেক রহমানকে সঠিক পথে আসার আহ্বান জানান। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন, পুলিশ সংস্কারে ব্যর্থতা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার ছয় মাস পর দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত করা উচিত। তিনি অবিলম্বে গুমের তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের দাবি জানান।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে কর্মসূচিটির আয়োজন করে এনসিপি।
তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিগত ১৬ বছর বিএনপির নেতারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। এখন সরকারে থেকে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী জবাব দেবেন।”





























