ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ৫ বছর পর টাকা তোলার সুযোগের প্রস্তাব

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে গ্রাহকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে পাঁচ বছর জমার পর টাকা উত্তোলনের সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন সুবিধা প্রদান এবং বিদ্যমান ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন ব্যবস্থা চালু করা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব বিষয় উপস্থাপন করা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। মোট ১১টি আলোচ্যসূচি নিয়ে পর্ষদ সভায় আলোচনা হবে এবং অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো পরবর্তীতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিমের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন, যাদের মোট জমার পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সমতা স্কিমে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন এবং প্রবাস স্কিমে ১ হাজার ১৭১ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকের তুলনায় মুনাফা কম এবং পেনশনের আগে তাৎক্ষণিক সুবিধা না থাকায় এই স্কিমের প্রতি মানুষের আগ্রহ কিছুটা কম।

নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বর্তমানের কঠোর নিয়ম শিথিল করে পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে একজন চাঁদাদাতা মারা গেলে তাঁর নমিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুবিধা পেলেও, নতুন প্রস্তাবে নমিনি হিসেবে স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে থাকতে চাওয়া গ্রাহকদের জন্য ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে।

পেনশন কর্তৃপক্ষের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে মাসিক ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা চালু করা, গ্রাহক নিবন্ধনে নিয়োজিত ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা এবং দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ তহবিল গঠন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, পর্ষদ সভায় অনুমোদনের পর এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেনশন কর্মসূচিতে নতুন গ্রাহকদের নিবন্ধনের জন্য ইউপেনশন ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময় আবেদনকারীকে প্রত্যয়ন করতে হয় যে তিনি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী নন। এরপর এনআইডি, জন্মতারিখ ও মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে ওটিপির মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ৫ বছর পর টাকা তোলার সুযোগের প্রস্তাব

আপডেট সময় : ১০:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে গ্রাহকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে পাঁচ বছর জমার পর টাকা উত্তোলনের সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন সুবিধা প্রদান এবং বিদ্যমান ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন ব্যবস্থা চালু করা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব বিষয় উপস্থাপন করা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। মোট ১১টি আলোচ্যসূচি নিয়ে পর্ষদ সভায় আলোচনা হবে এবং অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো পরবর্তীতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিমের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন, যাদের মোট জমার পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সমতা স্কিমে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন এবং প্রবাস স্কিমে ১ হাজার ১৭১ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকের তুলনায় মুনাফা কম এবং পেনশনের আগে তাৎক্ষণিক সুবিধা না থাকায় এই স্কিমের প্রতি মানুষের আগ্রহ কিছুটা কম।

নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বর্তমানের কঠোর নিয়ম শিথিল করে পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে একজন চাঁদাদাতা মারা গেলে তাঁর নমিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুবিধা পেলেও, নতুন প্রস্তাবে নমিনি হিসেবে স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে থাকতে চাওয়া গ্রাহকদের জন্য ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে।

পেনশন কর্তৃপক্ষের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে মাসিক ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা চালু করা, গ্রাহক নিবন্ধনে নিয়োজিত ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা এবং দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ তহবিল গঠন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, পর্ষদ সভায় অনুমোদনের পর এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেনশন কর্মসূচিতে নতুন গ্রাহকদের নিবন্ধনের জন্য ইউপেনশন ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময় আবেদনকারীকে প্রত্যয়ন করতে হয় যে তিনি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী নন। এরপর এনআইডি, জন্মতারিখ ও মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে ওটিপির মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo