এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর (15 September 2026) ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে বড় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসের মিশন শুরু করল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম গোল হজম করার পর পুরো ৯০ মিনিট জুড়েই ছিল কোরিয়ানদের একচেটিয়া আধিপত্য। শেষ গোলটি আসে নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে। মাঝের সময়ে আরও আটটি গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী দলের এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড। এর আগে ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসের এই ইভেন্টটি ছিল এবারের আসরে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের প্রথম কোনো ম্যাচ, আর শুরুতেই এমন শোচনীয় পরাজয় দলটিকে বড় ধাক্কা দিল।
ম্যাচের শুরুতেই কোচের কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। দলের অন্যতম সেরা চার খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা, সাগরিকা, মনিকা চাকমা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে শুরুর একাদশে না রেখে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। টানা তিনবারের এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তরুণ খেলোয়াড়দের দিয়ে এমন পরীক্ষা চালানো শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ ৭-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে।
বিরতির পর ভুল বুঝতে পেরে কোচ অভিজ্ঞ ও সিনিয়র খেলোয়াড়দের মাঠে নামান। তবে ততক্ষণে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও তিনটি গোল হজম করে। পুরো ৯৩ মিনিটের খেলায় গড়ে প্রতি ৯ মিনিটে একটি করে গোল করেছে উত্তর কোরিয়া। গোলবন্যার কারণে একপর্যায়ে কোরিয়ান খেলোয়াড়দের গোল উদ্যাপন করতেও দেখা যায়নি। গ্যালারিতে কোরিয়ান সমর্থকদের উল্লাসের বিপরীতে মাঠে বাংলাদেশি ফুটবলারদের কেবল ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত চেহারাই ফুটে উঠেছে।
পুরো ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার গোলপোস্টে একটি আক্রমণও করতে পারেনি বাংলাদেশ। কোরিয়ার গোলরক্ষক পুরো ম্যাচে মাত্র দুই থেকে তিনবার বল স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছেন, তাও সতীর্থদের ব্যাকপাস থেকে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি গোলরক্ষক মিলি আক্তার কিছু ব্যক্তিগত ভুল করলেও দারুণ দক্ষতায় অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেছেন। তার এই প্রচেষ্টা না থাকলে হারের ব্যবধান ১৭-০ হতে পারত।
কৌশল, গতি কিংবা শারীরিক শক্তি—ফুটবলের সব বিভাগেই উত্তর কোরিয়ার চেয়ে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অথচ এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের মূল লক্ষ্যই ছিল গোল হজমের ব্যবধান যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখা। গত মার্চে এই প্রতিপক্ষের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু পাঁচ মাসের ব্যবধানে সেই হারের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়ে ১০-০ তে দাঁড়াল।
ম্যাচের প্রথম গোলটা হলো ৫ মিনিটের মাথায়। খেলার ৯০ মিনিটের সময় হলো শেষ গোলটা। ভাবছেন এটাই শেষ! তাহলে আপনি ভুল, বড় ভুল! শুরু ও শেষের গোলের মাঝখানে আরো আটটা গোল হলো। ম্যাচের ফল—বাংলাদেশ ০, উত্তর কোরিয়া ১০!
তার এই পরীক্ষার ফল হলো, বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ ০, কোরিয়া ৭!





























