শিবালয়ে ডাম্পিং স্টেশনের অভাব: যত্রতত্র ময়লা ফেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য
- আপডেট সময় : ০৭:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৪৬
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আবাসিক এলাকা ও আরিচা নদী বন্দরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লার ভাগাড় না থাকায় রাস্তাঘাট ও নদীর পাড়েই গড়ে উঠেছে অসংখ্য ময়লার স্তূপ। এর ফলে ছড়াচ্ছে পচা দুর্গন্ধ এবং ডেঙ্গু, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যা জনস্বাস্থ্যকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবালয়ের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আরিচা নদী বন্দর অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রায় তিন হাজার পরিবারের ১২ হাজার মানুষের বসবাস। অথচ দীর্ঘ সময়েও এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ, পোস্ট অফিস রোডের মোড়ে আজাদের বাড়ির সামনে, ভূমি অফিসের সামনে এবং বন্দর বাজারের পশ্চিম পাশে যমুনা নদীর তীরে অবাধে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি, হোটেল ও দোকানের বর্জ্য। এমনকি রাতের অন্ধকারে শিবালয় নতুন পাড়া ড্রেনের রাস্তার ওপরও ফেলা হচ্ছে ময়লা। এসব ময়লার স্তূপের পাশেই রয়েছে মানুষের যাতায়াতের রাস্তা, স্কুল এবং একাধিক আবাসিক বাড়িঘর।
সরেজমিনে দেখা যায়, আরিচা বন্দরের পোস্ট অফিস রোডের পাশে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে এলাকাটিকে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। বাজারের পশ্চিমে যমুনা নদীর তীরে মাংস ব্যবসায়ী ও কসাইদের গরু slaughter-এর বর্জ্যসহ প্রতিদিনের বাজার ও বাসাবাড়ির ময়লা ফেলা হচ্ছে। তীব্র দুর্গন্ধে এই পথ দিয়ে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরো বাজারের পচা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে গিয়ে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে।
আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, এই এলাকায় দুটি সরকারি উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলের পাশে জমে থাকা ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে চরম বিড়ম্বনা নিয়ে যাতায়াত করছে। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশরাফ হোসেন বলেন, ময়লার এই দূষিত দুর্গন্ধ থেকে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো বিভিন্ন রোগ ছড়ায়। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে হলে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
৩ নম্বর শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আলাল উদ্দিন আলাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জানান, ইউনিয়ন পরিষদেরও নিজস্ব সক্ষমতা নেই যে তারা ময়লা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করে দেবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।



























