মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ রাজুর পেট থেকে বেরিয়ে এল রক্তমাখা ভাত
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারান রাজু আহমেদ। ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর বাঁশবাড়িতে আন্দোলন চলাকালে পুলিশ, র্যাব, আনসার সদস্য এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় একটি আবাসিক ভবনের গেটের ভেতরে আশ্রয় নিলে রাজুকে টেনে বের করে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাজুকে টেনে বের করার পর পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তার পায়ে ও পেটে গুলি করে। গুলির আঘাতে তার পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বেরিয়ে আসে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রাজুকে গুলি করার ঘটনায় আনসার সদস্য ওমর ফারুকের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন প্রত্যক্ষদর্শী মামুন ফরায়েজী। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অষ্টম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেন। ৩১ বছর বয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মামুন ফরায়েজী জানান, রংপুরে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর তিনি ১৭ জুলাই থেকে নিয়মিত আন্দোলনে অংশ নেওয়া শুরু করেন। ১৮ জুলাই আল্লাহ করিম মসজিদের পাশেও আন্দোলনকারীদের ওপর পাখির মতো গুলি চালানো হয়েছিল বলে তিনি জানান।
জবানবন্দিতে মামুন আরও জানান, ১৯ জুলাই বেলা আড়াইটার দিকে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের গলিতে আশ্রয় নেওয়ার সময় তিনি ওরিয়েন্টাল কোভান নামক ভবনের গেটে রাজুর ওপর চালানো এই বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া ২২ জুলাই মোহাম্মদপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচে টিয়ার শেলের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন এবং রক্তবমি করেছিলেন।
সাক্ষী মামুন ফরায়েজী ট্রাইব্যুনালকে জানান, তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।


























