ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেতে বিক্ষোভ প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি ঢাকায় ছয় মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস, ৯৮টি রুট কমে ৩২ আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে থামল বাংলাদেশ কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত, বিজিবির পাল্টা গুলি মক্কা-মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা: আদালতে সৎমা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সরব শাবানা আজমি ও নাসিরউদ্দিন শাহ ঢামেকের জরুরি বিভাগে মরদেহ রেখে উধাও দুই ব্যক্তি সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং আটক

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে অবশ্যই সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানাটির সত্যতা যাচাই করবেন। এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে, এই নির্দেশনাটি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) মাধ্যমে দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সার্কুলার আকারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জেলা ও মহানগর জজ, সিজিএম এবং সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছেও বিশেষ নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনায় নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আদালত রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর যেকোনো ব্যত্যয় আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। নাগরিকদের অযথা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব বলেও আদালত মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি) এই রিট আবেদনটি করে। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। শুনানিতে এইচআরপিবির সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ ২০১২ সালে আরিফ নিয়াজী নামক এক ব্যক্তির ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি তুলে ধরেন। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতেও ভুয়া মামলার মাধ্যমে পরোয়ানা জারির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছিল। তবে শুনানিতে সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন জানান, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ডাটা সিস্টেম চালু থাকায় ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে অবশ্যই সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানাটির সত্যতা যাচাই করবেন। এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে, এই নির্দেশনাটি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) মাধ্যমে দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সার্কুলার আকারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জেলা ও মহানগর জজ, সিজিএম এবং সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছেও বিশেষ নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনায় নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আদালত রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর যেকোনো ব্যত্যয় আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। নাগরিকদের অযথা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব বলেও আদালত মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি) এই রিট আবেদনটি করে। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। শুনানিতে এইচআরপিবির সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ ২০১২ সালে আরিফ নিয়াজী নামক এক ব্যক্তির ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি তুলে ধরেন। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতেও ভুয়া মামলার মাধ্যমে পরোয়ানা জারির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছিল। তবে শুনানিতে সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন জানান, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ডাটা সিস্টেম চালু থাকায় ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh