ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক

গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ করলেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বঙ্গভবনে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্টের প্রেস উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সর্বদা সজাগ ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সাক্ষাতের সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রেসিডেন্টের সামনে তুলে ধরেন। তাদের আশ্বস্ত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং তাদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য প্রেসিডেন্ট তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে একই দিনে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান, কৃষিপণ্য ও ওষুধসহ মানসম্মত পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। হাইকমিশনার জানান, আগামী অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানের পণ্য নিয়ে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি বাংলাদেশেও অনুরূপ মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি চলতি বছর ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহের কথাও জানান।

হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট দুই দেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাইকমিশনার তার দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করলে তিনি সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ করলেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বঙ্গভবনে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্টের প্রেস উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সর্বদা সজাগ ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সাক্ষাতের সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রেসিডেন্টের সামনে তুলে ধরেন। তাদের আশ্বস্ত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং তাদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য প্রেসিডেন্ট তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে একই দিনে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান, কৃষিপণ্য ও ওষুধসহ মানসম্মত পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। হাইকমিশনার জানান, আগামী অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানের পণ্য নিয়ে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি বাংলাদেশেও অনুরূপ মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি চলতি বছর ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহের কথাও জানান।

হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট দুই দেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাইকমিশনার তার দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করলে তিনি সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin