ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার বিচার চাইলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাক্ষী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জুলাই বিপ্লবের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাক্ষী সাবাব হোসেন মেহের। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতক এবং জুলাই বিপ্লবের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাবাব ঘটনার দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।

সাবাব জানান, ১৮ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ, র‍্যাব ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা টিয়ারশেল ও শটগান নিয়ে হামলা চালায়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিলেও পুলিশ গেটের ভেতরে গুলি ছুড়লে ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্র্যাক শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহত হন। ওই দিন ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী জিল্লুর শেখ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন এবং দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে আসা হয়।

জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ জুলাই রাতে তিনি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি টের পান। তার ভাষ্যমতে, সরকার পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল যাতে আন্দোলনকারীরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে, সিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ট্র্যাক করা সহজ হয় এবং সারাদেশের হত্যাকাণ্ডের খবর যেন দেশ ও বিদেশের মানুষ জানতে না পারে। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই আফতাবনগর এ-ব্লক মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি রামপুরা ব্রিজের ওপর থেকে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের নির্বিচারে গুলি করতে দেখেন। তিনি জানান, ওই দিন রামপুরা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছিলেন।

সাবাব আরও জানান, ১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কল রেকর্ড থেকে তিনি জানতে পারেন যে, শেখ হাসিনার নির্দেশে সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে জুনাইদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছিলেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সালমান এফ রহমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তিনি তার জবানবন্দিতে তুলে ধরেন। সবশেষে তিনি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার বিচার চাইলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাক্ষী

আপডেট সময় : ১০:২৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাক্ষী সাবাব হোসেন মেহের। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতক এবং জুলাই বিপ্লবের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাবাব ঘটনার দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।

সাবাব জানান, ১৮ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ, র‍্যাব ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা টিয়ারশেল ও শটগান নিয়ে হামলা চালায়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিলেও পুলিশ গেটের ভেতরে গুলি ছুড়লে ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্র্যাক শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহত হন। ওই দিন ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী জিল্লুর শেখ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন এবং দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে আসা হয়।

জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ জুলাই রাতে তিনি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি টের পান। তার ভাষ্যমতে, সরকার পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল যাতে আন্দোলনকারীরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে, সিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ট্র্যাক করা সহজ হয় এবং সারাদেশের হত্যাকাণ্ডের খবর যেন দেশ ও বিদেশের মানুষ জানতে না পারে। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই আফতাবনগর এ-ব্লক মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি রামপুরা ব্রিজের ওপর থেকে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের নির্বিচারে গুলি করতে দেখেন। তিনি জানান, ওই দিন রামপুরা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছিলেন।

সাবাব আরও জানান, ১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কল রেকর্ড থেকে তিনি জানতে পারেন যে, শেখ হাসিনার নির্দেশে সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে জুনাইদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছিলেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সালমান এফ রহমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তিনি তার জবানবন্দিতে তুলে ধরেন। সবশেষে তিনি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh