‘ঘুষ.সাইট’ আলোচনার মধ্যে ময়মনসিংহে দুই শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের সদর ও নান্দাইল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের আকস্মিক বদলি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক এ লেভেল শিক্ষার্থীর তৈরি করা ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের জেরে এই রদবদল কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। তবে শিক্ষা বিভাগ একে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করেছে।
জানা গেছে, মায়ের মৃত্যুর পর পেনশন ও পাসপোর্টের কাজ করতে গিয়ে বারবার ঘুষের দাবির মুখে পড়ে শাহেদ শরীফ আহমেদ নামের এক কিশোর। এর প্রতিবাদে সে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে। শাহেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাবার সঙ্গে থাকে এবং তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়ায়। তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর মধ্যেই গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক আদেশে নান্দাইলের শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছাকে সদরে এবং সদরের শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে নান্দাইলে বদলি করে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
বদলি হওয়া সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে ফোন ধরেননি। তিনি ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি সদরে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ‘ঘুষ.সাইট’ নির্মাতা শাহেদ শরীফ জানান, বদলির খবর তিনি জানেন না এবং মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে নান্দাইল থেকে সদরে বদলি হওয়া ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সিসি ক্যামেরা কেনার নামে টাকা আদায়, আসবাবপত্রের বরাদ্দের অর্থ নয়ছয়, অনিয়মতান্ত্রিক শিক্ষক বদলি, নিজের কক্ষে এসি লাগানো এবং কর্মস্থলে না থেকে ময়মনসিংহ শহরে থাকা। গত ২ সেপ্টেম্বর এসব অভিযোগের তদন্ত করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মজিব আলম।
অবশ্য ফজিলাতুন নেছা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি নিজেই দেড় মাস আগে বদলির আবেদন করেছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামও জানান, সদর উপজেলা কর্মকর্তা প্রায় চার বছর ধরে কর্মরত থাকায় এবং নান্দাইলের কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই বদলি করা হয়েছে। ‘ঘুষ.সাইট’ বা অনিয়মের অভিযোগের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তদন্ত প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট পরিবারটি কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য ৩ আগস্ট পর্যন্ত কোনো আবেদনই করেনি।


























