জনবল সংকটে বরিশালের ৩ উপজেলায় ফায়ার লাইসেন্স সেবা ব্যাহত, ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২০: ৫৮ মিনিটে (11 September 2026, 20:58) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের উজিরপুর, বানারীপাড়া ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স-সংক্রান্ত সেবা নিয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এই তিন উপজেলায় ফায়ার লাইসেন্স প্রদান, সরেজমিন পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ফলে সেবা নিতে আসা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বারবার কার্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যাতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
উজিরপুরের ব্যবসায়ী মো. সজল মোল্লা অভিযোগ করেন, বিশাল এলাকার লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজ সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালনা করায় সেবার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে উজিরপুর ও আগৈলঝাড়ার সেবাগ্রহীতাদের নির্ধারিত কর্মকর্তার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অন্য দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় লাইসেন্সের কাজ আরও পিছিয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল বিভাগের তথ্যমতে, বরিশাল জেলার উজিরপুর, বানারীপাড়া, গৌরনদী, বাবুগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ফায়ার স্টেশন রয়েছে। জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তালিকা অনুযায়ী, উজিরপুর ফায়ার স্টেশনে আব্দুর রশিদ ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার হিসেবে এবং বানারীপাড়া ফায়ার স্টেশনে লিটন হাওলাদার সংযুক্ত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া বরিশাল জেলা কার্যালয়ে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে সাইফুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় ই-লাইসেন্স প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ই-ফায়ার লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের ফায়ার লাইসেন্সকে এই অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্বের লাইসেন্সগুলোও নবায়নের পরিবর্তে 'রিঅ্যাসেসমেন্ট' বা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত করার নিয়ম করা হয়েছে। তবে অনলাইন সেবা চালু হলেও মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের কারণে এর সুফল মিলছে না। লাইসেন্স আবেদনের ফরমে উপজেলা, ইউনিয়ন ও নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম থাকায় এই সেবাটি সরাসরি তৃণমূলের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ভৌগোলিক দিক থেকে উজিরপুর, বানারীপাড়া ও আগৈলঝাড়া পাশাপাশি অবস্থিত হলেও প্রতিটি এলাকার জনসংখ্যা, ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভিন্ন। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে একাধিক উপজেলায় লাইসেন্স তদারকি করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের মানচিত্রভিত্তিক জোন বা দায়িত্ব বণ্টন ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কোন স্টেশনের অধীনে কোন এলাকা থাকবে এবং কোথায় কতজন পরিদর্শক প্রয়োজন, তা ভৌগোলিক দূরত্ব বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হলে ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং লাইসেন্স সেবার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফায়ার সার্ভিসের মূল কাজ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার হলেও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে ফায়ার লাইসেন্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গুদাম ও বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কি না, তা যাচাইয়ের পরেই এই লাইসেন্স দেওয়া হয়। তাই লাইসেন্স কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা শুধু ভোগান্তি বাড়াচ্ছে না, বরং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বরিশাল বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল ই-ফায়ার লাইসেন্স সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি এবং বিভাগীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায়নি।
আগৈলঝাড়ার ব্যবসায়ী ওমর আলী সানি দাবি করেন, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও আগৈলঝাড়ার লাইসেন্স কার্যক্রমের গতি ফেরাতে দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ বা পদায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জোন পুনর্বিন্যাস করে একটি সুনির্দিষ্ট সেবা কাঠামো চালু করা হলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে এবং অগ্নিনিরাপত্তা তদারকিও জোরদার হবে।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর লিটন হাওলাদার জানান, তার মূল পোস্টিং জেলা হেডকোয়ার্টারে হওয়ার কথা থাকলেও তিন উপজেলায় স্টেশন অফিসার না থাকায় তাকে বানারীপাড়া ফায়ার স্টেশনের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এই কারণে উজিরপুর ও আগৈলঝাড়ার সেবাপ্রার্থীদেরও লাইসেন্সের কাজের জন্য বানারীপাড়ায় ছুটে আসতে হচ্ছে।





























