‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে ইউএইর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধারাবাহিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আবুধাবিকে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা তা অব্যাহত রেখেছে। এই আচরণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় নয়। ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক পথই এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে তাকে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি জানিয়ে সিদ্ধান্তটি কার্যকরের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে ই-মেইলে যোগাযোগ করা হলেও ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আলজেরিয়ার গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইউএইর কঠোর সমালোচনা করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলছে। বিশেষ করে বেশ কিছু আঞ্চলিক ইস্যুতে আলজিয়ার্স ও আবুধাবির অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ইস্যু হলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। আলজেরিয়া শুরু থেকেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। বিপরীতে, আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মরক্কো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
এছাড়া দীর্ঘদিনের পশ্চিম সাহারা বিরোধ নিয়েও দুই দেশ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। মরক্কো পশ্চিম সাহারার ওপর নিজেদের sovereignty বা সার্বভৌমত্ব দাবি করে, যাকে সরাসরি সমর্থন জানায় ইউএই। এমনকি সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কনস্যুলেটও রয়েছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া সমর্থন দিয়ে আসছে পলিসারিও ফ্রন্টকে, যারা পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই করছে। পাশাপাশি সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে ইউএই তাদের সম্পর্ক জোরদার করেছে। অপরদিকে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে আলজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলজিয়ার্সের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।


























