সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন সংশোধনী বিল পাস, বিতর্কিত ধারা বাতিল
- আপডেট সময় : ১১:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি পাসের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে।
আইনটির ১৮(ক) ধারা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলছিল। সমালোচকদের মতে, এই ধারার মাধ্যমে ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংকের সাবেক ও বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডারদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ধারাটির আওতায় কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় ব্যাংকটির শেয়ার, সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করার সুযোগ পেতেন। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও একই সুযোগ দিতে পারত। পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই ধারাটি বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
বিলটি পাসের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এই ধারায় নির্ধারিত কঠোর শর্তাবলি পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি। সংকটে পড়া তফসিলি ব্যাংক পুনর্গঠনে বাজারভিত্তিক বিকল্প কাঠামো দেওয়া, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু ধারাটির মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়নি, তাই সরকার এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে এই ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় ১৮(ক) ধারাটি যুক্ত করা হয়। অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়নের মূল কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং সংসদের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের উদ্দেশ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


























