ফুলবাড়ী কলেজে ফরম পূরণের টাকা নিয়ে উধাও কর্মচারী, ৯১ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ৯১ জন শিক্ষার্থীর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেন কলেজের মাস্টাররোলে কর্মরত একজন সহকারী কর্মচারী। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট থেকে তিনি কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ইংরেজি বিভাগের ৯১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষার্থীপ্রতি ৪ হাজার ৯৩৯ টাকা করে মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা সংগ্রহ করেন আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা কলেজের পাওনা হিসেবে পরিশোধ করা হলেও বাকি দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি। এই টাকা তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
বিভাগীয় প্রধানের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংগৃহীত টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার মৌখিক দাবি করেছিলেন। কিন্তু হিসাব মেলানোর তাগিদ দেওয়ার পর থেকে তিনি আর কলেজে আসেননি এবং দায়িত্বও হস্তান্তর করেননি। এছাড়া বিভাগের গোপনীয় নথিপত্র, আবেদন ফরম ও রেজিস্টার খাতা তাঁর জিম্মায় থাকায় সেগুলো গোপন বা অপব্যবহারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন, রেজাউল করিম, গোপাল চন্দ্র সরকার ও শাহেদ আলীসহ অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দিলেও তা ব্যাংকে না পৌঁছানোয় এখন প্রবেশপত্র পাওয়া এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত টাকা উদ্ধার ও অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আহসান হাবীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ২০ দিন পার হয়ে গেলেও আনোয়ার কলেজে আসেননি বা টাকা ফেরত দেননি। এমনকি আনোয়ারের শ্বশুর, যিনি কলেজের এলপিআরে যাওয়া পিওন রশিদ মিয়া, টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর হয়নি। তাই কলেজ প্রশাসন বাধ্য হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।




























