দুদকের সামনে বিশাল তদন্তের বোঝা, দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাদের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জমে থাকা তদন্তের বোঝা। গত পাঁচ মাসে সংস্থাটিতে ৩ হাজার ৫০০টি নতুন অভিযোগ জমা পড়েছে, যার পাশাপাশি ১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা হাজারো মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার চাপও রয়েছে নতুন কমিশনের ওপর।
দুদকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৩০শে জুন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ২২৫টি দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৩৮টি মামলা নিম্ন আদালতে এবং ৪ হাজার ৮১৬টি মামলা হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে পেন্ডিং অবস্থায় আছে। এই বিপুল সংখ্যক পুরনো মামলার পাশাপাশি নতুন অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা নতুন কমিশনের জন্য একটি বড় কর্মযজ্ঞ।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মইদুল ইসলাম জানান, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত মামলাগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। তিনি বলেন, বিভিন্ন আইনি জটিলতা বা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের অজুহাতে তদন্তের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়াই মঞ্জুর করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলার আলামত ও তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার মনে করেন, এই দীর্ঘসূত্রতা কমাতে প্রতিটি মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
অন্যদিকে, দুদকের মুখপাত্র ও উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, কমিশন সবসময়ই নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে সচেষ্ট। তবে অনেক সময় সরকারি-বেসরকারি দপ্তর থেকে ব্যাংক হিসাব বা আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র যথাসময়ে পাওয়া যায় না, যা তদন্তে জটিলতা সৃষ্টি করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ৩০টিরও বেশি ফাইলের ভার রয়েছে, যা এককভাবে সামলানো কঠিন। তবে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রতা কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।




























