যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি
- আপডেট সময় : ১২:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ০৫ (09-09-2026, 12:05)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই ইরানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও হুমকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের ভেতরে ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং স্থল সীমান্তে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর প্রায়ই প্রকাশ করছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে যুদ্ধ শুরুর আগে এবং যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এ ধরনের খবর প্রকাশের হার অনেক বেড়েছে। ইরান সরকার এই পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে দেশের ভেতরে ও বাইরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে ‘বিপ্লববিরোধী’ ও ‘রাজতন্ত্রপন্থি’ গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত আট সদস্যের একটি নেটওয়ার্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর দাবি অনুযায়ী, আটককৃতদের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের সময় মলোটভ ককটেল বিস্ফোরণ এবং টায়ার পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটলেও, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষকে পুনরায় রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। অবশ্য বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরে পাহলভী সমর্থকদের বড় কোনো সংগঠিত বা সক্রিয় রাজতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিক্ষোভগুলো মূলত অর্থনৈতিক মন্দা এবং সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেই সংগঠিত হয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তারা গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তবে তেহরানের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিম সীমান্তের কুর্দি যোদ্ধারা। ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় এই গোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকটি দল বহু বছর ধরে উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে নিজেদের ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান করছে। পাশাপাশি ইরানের অস্থির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী বালুচ যোদ্ধাদের তৎপরতা তেহরানের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মনে করেন, কুর্দি ও বালুচ বিদ্রোহীদের যদি বাইরের কোনো পক্ষ থেকে সহায়তা বাড়ানো হয়, তবে ইরানের নিরাপত্তা সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আমেরিকার শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিলেন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র উৎখাতের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। চলমান যুদ্ধ শুরুর পরও যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।




























