নির্বাচনের পর সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন করেন অনেকে: আলী হাসান উসামা
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ০৫
সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক মুফতি আলী হাসান উসামা রাজনৈতিক নেতাদের দ্বিচারিতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই মাথায় টুপি পরেন, মসজিদে যান এবং আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগান। কিন্তু নির্বাচন শেষেই তারা সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের কথা ও কাজের মধ্যে চরম অসামঞ্জস্যের বড় প্রমাণ।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুনামগঞ্জ পৌর শাখার উদ্যোগে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মুফতি উসামা বলেন, নির্বাচনের আগে এক রূপ আর পরে অন্য রূপ ধারণ করে যারা কথার বরখেলাফ করেন, তাদের প্রণীত কোনো ইসলামবিরোধী আইন এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কখনোই মেনে নেবে না। মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকা আবশ্যক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল নির্বাচনের সময় ভালো সাজা যথেষ্ট নয়; ক্ষমতা ও দায়িত্ব পাওয়ার পরও সততা, ন্যায়নীতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর অবিচল থাকতে হবে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শের ওপর আলোকপাত করে এই গবেষক আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর পবিত্র জীবনে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাই সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আলোচনা থেকে প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা জরুরি।
সুনামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুস সাত্তার মু. মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলটি সঞ্চালনা করেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মো. শামছউদ্দিন।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কলাউড়া ফাজিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুছ ছাত্তার এবং বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় আলেম-ওলামা এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।


























