‘শেখ হাসিনা আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে আনতে চাই’
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই।’ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি আসবেন এবং তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাঁকে ধরে আনতে চাই।’
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার আসলেই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, তা নিয়ে অনেকে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, ভারতের ওপর চাপ তৈরি করতেই কেবল এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যখন এটিকে শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছে, আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। সে কারণেই আমরা বারবার বলছি—শেখ হাসিনা আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে একজন পলাতক এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি এসে আপিল করে নিজের বিচার পুনর্বিবেচনা করাবেন, সেই সময়ও তাঁর হাতে নেই। কারিগরিভাবে বিষয়টি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, তিনি দেশে আসলেই তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে এবং সরকার তাঁকে ধরে নিয়ে আসতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রসঙ্গ টেনে ডা. জাহেদ উর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু বাঁধনই নন, এর আগেও যাঁরা বিদেশে গিয়েছেন, তাঁরাও হামলার শিকার হয়েছেন। আমরা যে কেউই সেখানে গেলে এ ধরনের হামলার মুখোমুখি হতে পারি। এই পরিস্থিতিগুলো যখন ঘটছে, তখন শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা আমাদের জন্য কতটা বিরক্তিকর এবং ক্ষোভের কারণ, তা ভারতের বোঝা উচিত।’
এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রশ্ন করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব আপনারা মাননীয় হাইকমিশনারকে এই প্রশ্নটি করবেন যে, তাঁরা কি মনে করেন এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত (পজিティブ জেসচার)? একদিকে মুখে ভালো কথা বলা হচ্ছে, কিছু ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে এমন কিছু করা হচ্ছে যা আসলে সবকিছুকে নেতিবাচক করে ফেলে।’
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে কোনো সম্পর্কের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ প্রয়োজন। ভারতকে আমাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে তারা আমাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যুক্ত হতে চায়।





























