বগুড়ায় বিএনপি নেতা হত্যায় পুলিশের ৮ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার ধুনট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউর রহমান জ্যোতিকে চরমপন্থী দলের সদস্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর নিহতের ছেলে রওশন জামিল রাসেল আদালতে মামলা দায়ের করলে বিষয়টি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, তার ছেলে ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহম্মদ আসিফ ইকবাল সনিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে পুলিশের আট কর্মকর্তাও রয়েছেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অধিকাংশই বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে কর্মরত রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল সকালে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহের জন্য মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদে যান শফিউর রহমান জ্যোতি ও তার ছেলে রওশন জামিল রাসেল। সেখানে যাওয়ার পর রাসেল তার বাবাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন। এরপর জ্যোতি মোটরসাইকেলে করে ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করলে শেরপুর থানার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা বুলবুলের নেতৃত্বে পুলিশ তার পিছু নেয়। পরিবারের অভিযোগ, তৎকালীন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে। ওইদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মথুরাপুর-চান্দাইকোনা সড়কের রায়ার চারমাথার তালতলা এলাকায় জ্যোতির মোটরসাইকেল গতিরোধ করে তাকে একটি কালো রঙের হায়েস গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা শেরপুর ও ধুনট থানায় খোঁজ নিলেও পুলিশ তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। এমনকি জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার দুই দিন পর, ৩০ এপ্রিল সকালে শেরপুর থানার শালফা-বোয়ালকান্দি ব্রিজের নিচ থেকে জ্যোতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, মরদেহে গুলির ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে জ্যোতিকে হত্যা করে চরমপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। এ বিষয়ে পিবিআইয়ের বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। নিহতের ছেলে রওশন জামিল রাসেল দীর্ঘ ছয় বছর পর মামলা করার সুযোগ পাওয়ায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।



























