স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৯ দফা দাবি জানালো জামায়াত
- আপডেট সময় : ০১:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সর্বজনগ্রাহ্য করার লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দলের সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠক সম্পন্ন করে।
বৈঠক শেষে জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তটি বাতিল করা। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন। তাই শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের সুযোগ বন্ধ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমঅধিকারের নীতির পরিপন্থি ও বৈষম্যমূলক। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে দলটির পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, এই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে তারা। জামায়াত এই নিয়োগ দ্রুত বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। জামায়াতের মতে, নিষিদ্ধ দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে দলটির কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়েও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তাই এসব প্রশাসককে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। এমনকি তপশিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও তারা যেন প্রার্থী হতে না পারেন, সেই দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার জানান, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় জামায়াত দলীয়ভাবে কোনো নাম ঘোষণা করবে না, বরং আগ্রহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো বাধ্যবাধকতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।





























