ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানববন্ধন, ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ মানবজমিন-এ রিপোর্টার পদে লিখিত পরীক্ষা ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশালে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ ভাঙ্গায় ১২০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ মা-মেয়েসহ তিনজন আটক জুড়ী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৩৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ নতুন তিন আইনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা সংকুচিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়ান নবীনগরে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিলেন শারমিন সুলতানা জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি ও কূটনৈতিক তৎপরতা টাঙ্গাইলে রডের বদলে বাঁশ: সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন

নতুন বেতনকাঠামো ও ‘আমরা বনাম ওঁরা’ বৈষম্য নিয়ে শঙ্কার কারণ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৫ শতাংশ বাড়ানোর এবং জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হার ঘোষণার দুটি পৃথক সুপারিশ এসেছিল। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ প্রথম সুপারিশটি এবং সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন শ্রম সংস্কার কমিশন দ্বিতীয় সুপারিশটি করে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি থাকলেও, শ্রম কমিশনের সুপারিশ নিয়ে তেমন আলোচনা দেখা যায়নি। উল্টো পোশাকশ্রমিকেরা তাঁদের মজুরি মাত্র ৪ শতাংশ বাড়াতে পেরেছেন, যা বার্ষিক নিয়মিত ৫ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে মিলে মোট ৯ শতাংশ হলেও তৎকালীন মূল্যস্ফীতির চেয়ে ২ শতাংশ কম।

বেতন কমিশন গঠন ও উচ্চহারে বেতন বৃদ্ধির এই সুপারিশ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। বর্তমানে সরকারের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি দেওয়া কিংবা জ্বালানি কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। বিশাল বাজেট ঘাটতি ও কম রাজস্ব আদায়ের এই সময়ে জনপ্রশাসনে অতিরিক্ত ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। অথচ বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়াতে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। প্রশাসনকে অসন্তুষ্ট না রাখার তাগিদ থেকে বিএনপি সরকার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও বাড়তি অর্থের সংস্থান করা বড় চ্যালেঞ্জ। সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা চড়া মূল্যস্ফীতি এবং ব্যবসায়িক মন্দার কারণে জনগণের ওপর বাড়তি কর চাপানোর সুযোগও এখন সীমিত।

এই পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় কমানোর বিকল্প উপায় খোঁজার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের প্রথম মেয়াদে গঠিত সাবেক সচিব এম নুরুন্নবী চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন কমিটির (এআরসি) কথা উল্লেখ করা যায়। ১৯৯৬ সালের প্রতিবেদনে কমিটি মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩৫ থেকে কমিয়ে ২২টি করা, ৪৭টি সংস্থা বিলুপ্ত করা এবং ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা সাশ্রয় ও ৪৬ হাজার ২৭৬ জন অতিরিক্ত সিভিল কর্মচারী চিহ্নিত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় তৎকালীন বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বর্তমান সরকারও মন্ত্রণালয় ও সংস্থা একীভূত করতে এমন একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে পারে।

can একই সঙ্গে সরকারি বিলাসিতা বন্ধ করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান তাঁর কার্যালয়ে দুপুরের খাবার ১৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এর পাশাপাশি আমলাদের দ্বারা প্রকল্পের গাড়ি পরিবহন পুলে জমা না দিয়ে ব্যবহার করা বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় বৈঠক ও প্রশিক্ষণের ভাতা বাতিল, অহেতুক জনবল নিয়োগ, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং ভবন নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আয়বৈষম্য সমাজে ‘আমরা বনাম ওঁরা’ নামক একটি বিপজ্জনক মনোভাব তৈরি করছে। করোনাকালীন লকডাউনে যখন বেসরকারি খাতের মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বা বেতন কাটছাঁটের শিকার হয়েছেন, তখন সরকারি চাকরিজীবীরা পূর্ণ বেতন ও বোনাসসহ ছুটিতে ছিলেন। এই বৈষম্যমূলক অনুভূতিই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামিয়েছিল, যেখানে মাসে ৭-৮ হাজার টাকা আয়ের দোকানকর্মী, পোশাকশ্রমিক ও হকাররাও সামনের সারিতে ছিলেন। সরকার যদি শুধু সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয় এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দাবি উপেক্ষা করে, তবে এই পুঞ্জীভূত অসন্তোষ আগামীতে বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন বেতনকাঠামো ও ‘আমরা বনাম ওঁরা’ বৈষম্য নিয়ে শঙ্কার কারণ

আপডেট সময় : ০৩:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৫ শতাংশ বাড়ানোর এবং জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হার ঘোষণার দুটি পৃথক সুপারিশ এসেছিল। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ প্রথম সুপারিশটি এবং সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন শ্রম সংস্কার কমিশন দ্বিতীয় সুপারিশটি করে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি থাকলেও, শ্রম কমিশনের সুপারিশ নিয়ে তেমন আলোচনা দেখা যায়নি। উল্টো পোশাকশ্রমিকেরা তাঁদের মজুরি মাত্র ৪ শতাংশ বাড়াতে পেরেছেন, যা বার্ষিক নিয়মিত ৫ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে মিলে মোট ৯ শতাংশ হলেও তৎকালীন মূল্যস্ফীতির চেয়ে ২ শতাংশ কম।

বেতন কমিশন গঠন ও উচ্চহারে বেতন বৃদ্ধির এই সুপারিশ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। বর্তমানে সরকারের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি দেওয়া কিংবা জ্বালানি কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। বিশাল বাজেট ঘাটতি ও কম রাজস্ব আদায়ের এই সময়ে জনপ্রশাসনে অতিরিক্ত ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। অথচ বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়াতে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। প্রশাসনকে অসন্তুষ্ট না রাখার তাগিদ থেকে বিএনপি সরকার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও বাড়তি অর্থের সংস্থান করা বড় চ্যালেঞ্জ। সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা চড়া মূল্যস্ফীতি এবং ব্যবসায়িক মন্দার কারণে জনগণের ওপর বাড়তি কর চাপানোর সুযোগও এখন সীমিত।

এই পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় কমানোর বিকল্প উপায় খোঁজার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের প্রথম মেয়াদে গঠিত সাবেক সচিব এম নুরুন্নবী চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন কমিটির (এআরসি) কথা উল্লেখ করা যায়। ১৯৯৬ সালের প্রতিবেদনে কমিটি মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩৫ থেকে কমিয়ে ২২টি করা, ৪৭টি সংস্থা বিলুপ্ত করা এবং ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা সাশ্রয় ও ৪৬ হাজার ২৭৬ জন অতিরিক্ত সিভিল কর্মচারী চিহ্নিত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় তৎকালীন বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বর্তমান সরকারও মন্ত্রণালয় ও সংস্থা একীভূত করতে এমন একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে পারে।

can একই সঙ্গে সরকারি বিলাসিতা বন্ধ করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান তাঁর কার্যালয়ে দুপুরের খাবার ১৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এর পাশাপাশি আমলাদের দ্বারা প্রকল্পের গাড়ি পরিবহন পুলে জমা না দিয়ে ব্যবহার করা বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় বৈঠক ও প্রশিক্ষণের ভাতা বাতিল, অহেতুক জনবল নিয়োগ, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং ভবন নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আয়বৈষম্য সমাজে ‘আমরা বনাম ওঁরা’ নামক একটি বিপজ্জনক মনোভাব তৈরি করছে। করোনাকালীন লকডাউনে যখন বেসরকারি খাতের মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বা বেতন কাটছাঁটের শিকার হয়েছেন, তখন সরকারি চাকরিজীবীরা পূর্ণ বেতন ও বোনাসসহ ছুটিতে ছিলেন। এই বৈষম্যমূলক অনুভূতিই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামিয়েছিল, যেখানে মাসে ৭-৮ হাজার টাকা আয়ের দোকানকর্মী, পোশাকশ্রমিক ও হকাররাও সামনের সারিতে ছিলেন। সরকার যদি শুধু সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয় এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দাবি উপেক্ষা করে, তবে এই পুঞ্জীভূত অসন্তোষ আগামীতে বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo