বৃষ্টিতে কমছে ভ্যাপসা গরম, মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে বর্ষণের পূর্বাভাস
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আকাশ মেঘলা থাকায় দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। এতে গত কয়েকদিনের তীব্র ভ্যাপসা গরম থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে তাপমাত্রা আরও কমবে। বিশেষ করে আগামী মঙ্গল ও বুধবার সারাদেশে বৃষ্টির প্রকোপ বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আগামী মঙ্গলবার স্থলভাগে উঠে আসতে পারে। এর প্রভাবে মঙ্গল ও বুধবার দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং চলমান ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা কমে আসবে। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে; আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আবার কমে গিয়ে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে একই অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখা রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
লঘুচাপের প্রভাবে সোমবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। মঙ্গলবারও দেশের আট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় একই ধরনের বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা সামান্য কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম। এর আগে শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৬.৮ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ছিল ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসেবে রোববার কেবল কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও রংপুরে (৩৬ ডিগ্রি) মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেকটাই কমেছে।
চলতি মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও গরমের এই ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার লঘুচাপ সৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে বৃষ্টি বাড়লেও তা দুর্বল হওয়ার পর আবারও ভ্যাপসা গরম ফিরে এসেছে। সর্বশেষ শনিবার নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে পুনরায় ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।





























