নেপালে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে বন্যা থেকে বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ১০:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

নেপালের নুয়াকোট জেলায় বন্যার আশঙ্কায় প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীকে সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন ত্রিভুবন ত্রিশূলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৬০০-এর বেশি। প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চারটি সতর্কবার্তা পান। এর মধ্যে একটি বার্তায় উজানের বেত্রাবতী এলাকায় বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি কোনো বিলম্ব না করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাজেন্দ্র দাওয়াদি বলেন, ‘বন্যা না এলেও সর্বোচ্চ এক দিনের ক্লাস নষ্ট হতো। কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব ছিল না।’ শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীরা উঁচু স্থানে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের কাছে নদী থেকে ১০০ মিটার দূরে থাকা একটি হোস্টেল ভবন বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে দেখেন। দাওয়াদি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ১০ মিনিট পরে সিদ্ধান্ত নিতাম, তাহলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না।’
১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা জানায়, বন্যার পানি আঘাত হানার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে তারা নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। সে বলে, ‘আমি এবং আমার বন্ধুরা মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে গেছি।’ স্কুলের পেছনের সরু ও কাদাময় পথ দিয়ে দৌড়ে তারা উঁচু স্থানে ওঠার পর চোখের সামনে পুরো বাজার বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে। ইউনিশার মা সাবিনা শ্রেষ্ঠা জানান, বন্যার খবর পাওয়ার পর তিনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যর্থ হন, যা তাকে চরম আতঙ্কিত করে তোলে। ইউনিশা তিন দিন পর বাড়ি ফিরলে তার পরিবার স্বস্তি পায়। সাবিনা শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমি খুবই খুশি ও স্বস্তি অনুভব করছি। ঈশ্বর আমার মেয়েকে রক্ষা করেছেন।’




























