জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার, সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে উদ্যোগী সরকার
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার বিকেলে রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি অডিটোরিয়ামে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি, নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘৫ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, অতীতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণেই বর্তমান এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এখন এই সংকট আড়াল না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে হাঁটছে।
উপদেষ্টা জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই এখন মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে। ইতোমধ্যেই দুই গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি খসড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বাজেটে বরাদ্দ থাকা ২ হাজার কোটি টাকা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্রাহকদের শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে না দেখে উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নেট মিটারিং ব্যবস্থার জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে তিন শতাধিক আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছিল না, যা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এখন আরও বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অর্থায়নের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এবং বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) মতো প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেওয়া হবে। এই মডেলে গ্রাহক বা উৎপাদক মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ দেবেন, আরেকটি প্রতিষ্ঠান বা অ্যাগ্রিগেটর ২০ শতাংশ দেবে এবং বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি ঋণের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এভাবে অর্থায়ন করা গেলে ঋণের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা ব্যাপকসংখ্যক গ্রাহককে বিদ্যুতের উৎপাদকে পরিণত হওয়ার সুযোগ দেবে।
সৌরবিদ্যুতের আর্থিক সুফল তুলে ধরে রাশেদ তিতুমীর বলেন, এলএনজি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ প্রায় ৬৪ টাকা পর্যন্ত পড়ে। এক গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের দিকে যেতে পারলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ ভর্তুকি কমানো সম্ভব হবে, যা অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ খাতকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং এটি গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে গ্রামীণ মানুষ শুধু ভোক্তা থাকবেন না, উৎপাদক হিসেবেও ভূমিকা রাখবেন।
অতীতের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব কাজ অতীতেও করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তখন আমদানিনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল। এখন সরকার সেই ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে যেতে চায়। এছাড়া ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন কাজ করছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় আয় ও জাতীয় হিসাবের তথ্যের গরমিল খতিয়ে দেখতে স্বাধীন উৎসের তথ্য ব্যবহার করে ফরেনসিক অডিট চালানো হচ্ছে।



























