মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০২:২৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারার যে সম্ভাবনা ছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ৫ লাখে নেমে আসতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে। অর্থাৎ, প্রায় ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার সুযোগ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, গত বছর দেশে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়েছেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং মানুষের আয় না বাড়ার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট এবং সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন, কৃষি ও শিল্পখাত নতুন সংকটে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বর্তমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও সরাসরি পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, চলতি বছর দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা প্রায় ১০ শতাংশ হতে পারে। জ্বালানির বাড়তি দাম ধাপে ধাপে ভোক্তাদের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে, যার ফলে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে। তবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে এবং যুদ্ধ না হলে তা আরও কমত।
জ্বালানি খাতে যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। এছাড়া আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০-৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫-৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা দ্বিগুণেরও বেশি।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষি ও শিল্পে। দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটির উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং সারের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে সারের দাম দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা এবং শিল্পকারখানায় কাজের সময় কমানোর ফলে জ্বালানি সংকটের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাস্থ্য খাতের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতেও জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।



























