ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামলা করে পার পাওয়ার দিন শেষ: ইরান ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের পাঁচ ছাত্র সংসদের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে কড়াকড়ি আরোপ করল ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে থাইরয়েড দায়ী কি না বুঝবেন যেভাবে নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি: বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন ও সংহতি নেপালে বন্যায় মৃতদেহ সংরক্ষণে মর্গে জায়গা সংকট অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে বাংলাদেশ বড় বার্তা দিয়েছে: তালহা জুবায়ের ওআইসির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হলেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ সৈয়দপুরে বাসের লকারে ২৪ কেজি গাঁজা, নারী গ্রেপ্তার

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে তুরস্কের অধ্যাপকের বিশ্লেষণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মুরাত আসলামের মতে, এটিকে আক্রমণাত্মক জোট হিসেবে দেখা ভুল হবে। তিনি জানান, এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার প্রাথমিক উদ্দেশ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাত পরিহার করা। এর বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গতকাল সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপরই এই যোগদানের বিষয়টি নির্ভর করছে। সদস্য দেশগুলো আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি একে মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এতে অন্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ মনে করেন, এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং এআই পার্টনারশিপের সুযোগ পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন এবং অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানি করছে, যা এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে অধ্যাপক মুরাত আসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, এটি ন্যাটো নয়, কারণ এখানে ন্যাটোর মতো কোনো কেন্দ্রীয় কমান্ড স্ট্রাকচার বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, অতীতে সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও পাকিস্তানকে কোনো যুদ্ধে জড়াতে হয়নি।

এই জোটের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত শুরু থেকেই একে সন্দেহের চোখে দেখছে। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হলে এই জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে তুরস্কের অধ্যাপকের বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৯:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মুরাত আসলামের মতে, এটিকে আক্রমণাত্মক জোট হিসেবে দেখা ভুল হবে। তিনি জানান, এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার প্রাথমিক উদ্দেশ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাত পরিহার করা। এর বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গতকাল সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপরই এই যোগদানের বিষয়টি নির্ভর করছে। সদস্য দেশগুলো আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি একে মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এতে অন্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ মনে করেন, এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং এআই পার্টনারশিপের সুযোগ পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন এবং অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানি করছে, যা এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে অধ্যাপক মুরাত আসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, এটি ন্যাটো নয়, কারণ এখানে ন্যাটোর মতো কোনো কেন্দ্রীয় কমান্ড স্ট্রাকচার বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, অতীতে সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও পাকিস্তানকে কোনো যুদ্ধে জড়াতে হয়নি।

এই জোটের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত শুরু থেকেই একে সন্দেহের চোখে দেখছে। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হলে এই জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh