রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন নতুন পুলিশ কমিশনার
- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নতুন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বাড়িটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ কমিশনার বলেন, চার হত্যার এই ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং বিষয়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা চলছে। তদন্ত চলমান থাকায় বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও বক্তব্য সামনে আসতে পারে, তবে তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নাকচ করে পুলিশ কমিশনার জানান, লাশ উদ্ধারের সময় গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে। কোনো আলামত ধুয়েমুছে ফেলা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে মাদকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন। নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার বৃহস্পতিবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তদন্তের প্রয়োজনে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি মূলত মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে চাকরি করার পর তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১০ সালের দিকে মাছুয়াপাড়ায় জমি কিনে ২০২৩ সালের দিকে তিনি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। কিছুদিন বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকার পর নির্মাণাধীন বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেছিলেন। আগামী চক্রবর্তী স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন এবং তার বিয়ের আলোচনা চলছিল। আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম স্থানীয় জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
চার হত্যায় মাদকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে মাদকের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।



























