ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি ভর্তুকি ও সংস্কারের কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে অতীত ভুলে লিটনের বার্তা, আলিসের অভিষেকের ইঙ্গিত সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কারণ জানতে চেয়ে সৌ‌দিকে চি‌ঠি সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসার বিরোধে সাহেব আলী হত্যা, শুটার রনি গ্রেপ্তার যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৩৪০ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল: ইউনিসেফ হরমুজ প্রণালিতে মাইনের সঙ্গে ধাক্কা, তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ দেশে প্রয়োজনীয় সব টিকা পাওয়া শিশুর হার কমেছে, প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গলছে ডুমসডে গ্লেসিয়ার, বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি গাজীপুরে আকিজ রিসোর্সের ইনোভারের ‘সাফল্যের যাত্রা’ বিজনেস মিটআপ দায়িত্ব নেওয়ার ৫ দিনেই পদ হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া

২০২৭ সালে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ১১ শতাংশ বাড়তে পারে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভিয়েতনামের অর্থনীতির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক ও আশাবাদী মূল্যায়ন প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির গতি, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল ভিত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। এএফপির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিয়েতনামের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই হার দেশটির আগের ৭ শতাংশের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

শিল্প ও নির্মাণ খাত এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি উৎপাদন খাতের পুনরুদ্ধার এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান ডিএফডিএলের স্ট্যান্ড্রে বেজুইনহাউটের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় রদবদল এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগে পরিণত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে ভিয়েতনাম। তার ভাষ্যমতে, দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম আকর্ষণ, বাণিজ্যিক একীভূতকরণ আরও গভীর করা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে।

বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানেও এই প্রবৃদ্ধির গতি স্পষ্ট। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় ২৬৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ৬১ শতাংশ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ব্যাংকটি পূর্বাভাস দিয়েছে যে ভিয়েতনামের জিডিপি ২০২৬ সালে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ২০২৬ সালে ভিয়েতনামের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে। ব্যাংকটির মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই দেশটির প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে যেতে পারে মুদ্রানীতি।

থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টিম লিলাহাফান জানান, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। উৎপাদন, সেবা ও বিনিয়োগ খাতের শক্তিশালী কার্যক্রম প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে সহায়তা করার লক্ষ্যে সরকারের নেয়া বিভিন্ন নীতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকার মধ্যেও ভিয়েতনাম ২০২৬ সালের শেষ মাসগুলোতে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে প্রবেশ করছে বলে মনে করেন লিলাহাফান। তার মতে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামোয় অব্যাহত বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তর ভিয়েতনামের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৭ সালে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ১১ শতাংশ বাড়তে পারে

আপডেট সময় : ১২:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ভিয়েতনামের অর্থনীতির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক ও আশাবাদী মূল্যায়ন প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির গতি, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল ভিত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। এএফপির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিয়েতনামের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই হার দেশটির আগের ৭ শতাংশের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

শিল্প ও নির্মাণ খাত এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি উৎপাদন খাতের পুনরুদ্ধার এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান ডিএফডিএলের স্ট্যান্ড্রে বেজুইনহাউটের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় রদবদল এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগে পরিণত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে ভিয়েতনাম। তার ভাষ্যমতে, দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম আকর্ষণ, বাণিজ্যিক একীভূতকরণ আরও গভীর করা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে।

বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানেও এই প্রবৃদ্ধির গতি স্পষ্ট। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় ২৬৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ৬১ শতাংশ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ব্যাংকটি পূর্বাভাস দিয়েছে যে ভিয়েতনামের জিডিপি ২০২৬ সালে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ২০২৬ সালে ভিয়েতনামের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে। ব্যাংকটির মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই দেশটির প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে যেতে পারে মুদ্রানীতি।

থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টিম লিলাহাফান জানান, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। উৎপাদন, সেবা ও বিনিয়োগ খাতের শক্তিশালী কার্যক্রম প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে সহায়তা করার লক্ষ্যে সরকারের নেয়া বিভিন্ন নীতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকার মধ্যেও ভিয়েতনাম ২০২৬ সালের শেষ মাসগুলোতে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে প্রবেশ করছে বলে মনে করেন লিলাহাফান। তার মতে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামোয় অব্যাহত বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তর ভিয়েতনামের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin