ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেন্ট গ্রেগরী কলেজে একাদশে ভর্তি পরীক্ষা ১৩ সেপ্টেম্বর, আবেদন শুরু ১ সেপ্টেম্বর সিংগাইরে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু দেশজুড়ে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে খুন, ৭ মাসে ২০৭৬ হত্যাকাণ্ড ২৯ আগস্ট থেকে চুয়াডাঙ্গায় আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজে ফাটল: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট রূপপুর প্রকল্পে লিফট থেকে পড়ে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, গ্রেপ্তার ৫ নারায়ণগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি রক্ষার দাবি ইউএস ওপেনে ওয়াইল্ড কার্ড পেলেন সেরেনা-ভেনাস, চার বছর পর ফিরছে উইলিয়ামস জুটি

গাজায় লাশের মিছিল: কবরস্থানে জায়গা নেই, দাফন নিয়ে চরম সংকট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন থামার নাম নেই। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই চলছে হামলা। এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে এখন নতুন এক মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে—নিহতদের দাফন করার জন্য কবরস্থানে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।

গাজা সিটির জেইতুন এলাকার বাসিন্দা ওমর আল-সাওহি এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। গত ১০ জুন ইসরাইলের নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে চা-কফি বিক্রি করার সময় ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তার ৪০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ। বাবাকে দাফন করতে জেইতুন কবরস্থানে গিয়ে ওমর দেখেন, সেখানে আর কোনো জায়গা খালি নেই। যুদ্ধের কারণে কবরস্থানগুলোতে ঠাসাঠাসি করে মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। অনেক কবরে স্থায়ী সমাধিচিহ্ন নেই, কেবল পাথরের সঙ্গে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা কাগজ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর অভাব এবং জায়গার সংকটের কারণে এখন আর যুদ্ধের আগের মতো কবর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ওমর আল-জাজিরাকে জানান, কবরস্থানের মাঝখানে বালুর পাহাড়ের নিচে মানুষকে দাফন করা হচ্ছে। একটি কবর তৈরির খরচ প্রায় ৫০০ শেকেল বা ১৬৭ ডলার, যা জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। শেষ পর্যন্ত জায়গা না পেয়ে বাবাকে দাদার কবরেই দাফন করতে বাধ্য হন ওমর। গাজায় সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মৃতদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে স্কুল, হাসপাতাল চত্বর, তাবু বা বাড়ির আঙিনায় অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১,২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার হাসপাতালগুলোর সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার ধর্মীয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। এর আগে থেকেই গাজার ৬০টি কবরস্থান প্রায় পূর্ণ ছিল।

খান ইউনিস কবরস্থানে ১৯ বছর ধরে কবর খুঁড়ছেন তাফেশ আবু হাতাব। তিনি জানান, যুদ্ধের সময় তাকে প্রতিদিন ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময় যে কবরস্থানে মাত্র ৬০টি কবর ছিল, সেখানে এখন ৬,০০০ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে কবরস্থানে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সাধারণ মানুষের জন্য দাফনের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় লাশের মিছিল: কবরস্থানে জায়গা নেই, দাফন নিয়ে চরম সংকট

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন থামার নাম নেই। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই চলছে হামলা। এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে এখন নতুন এক মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে—নিহতদের দাফন করার জন্য কবরস্থানে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।

গাজা সিটির জেইতুন এলাকার বাসিন্দা ওমর আল-সাওহি এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। গত ১০ জুন ইসরাইলের নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে চা-কফি বিক্রি করার সময় ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তার ৪০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ। বাবাকে দাফন করতে জেইতুন কবরস্থানে গিয়ে ওমর দেখেন, সেখানে আর কোনো জায়গা খালি নেই। যুদ্ধের কারণে কবরস্থানগুলোতে ঠাসাঠাসি করে মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। অনেক কবরে স্থায়ী সমাধিচিহ্ন নেই, কেবল পাথরের সঙ্গে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা কাগজ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর অভাব এবং জায়গার সংকটের কারণে এখন আর যুদ্ধের আগের মতো কবর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ওমর আল-জাজিরাকে জানান, কবরস্থানের মাঝখানে বালুর পাহাড়ের নিচে মানুষকে দাফন করা হচ্ছে। একটি কবর তৈরির খরচ প্রায় ৫০০ শেকেল বা ১৬৭ ডলার, যা জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। শেষ পর্যন্ত জায়গা না পেয়ে বাবাকে দাদার কবরেই দাফন করতে বাধ্য হন ওমর। গাজায় সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মৃতদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে স্কুল, হাসপাতাল চত্বর, তাবু বা বাড়ির আঙিনায় অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১,২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার হাসপাতালগুলোর সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার ধর্মীয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। এর আগে থেকেই গাজার ৬০টি কবরস্থান প্রায় পূর্ণ ছিল।

খান ইউনিস কবরস্থানে ১৯ বছর ধরে কবর খুঁড়ছেন তাফেশ আবু হাতাব। তিনি জানান, যুদ্ধের সময় তাকে প্রতিদিন ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময় যে কবরস্থানে মাত্র ৬০টি কবর ছিল, সেখানে এখন ৬,০০০ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে কবরস্থানে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সাধারণ মানুষের জন্য দাফনের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin