শিবচরে মা’কে হত্যা ও শিশুকে নদীতে নিক্ষেপের ঘটনায় গ্রেফতার ১
- আপডেট সময় : ০৬:০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুরের শিবচরে শাম্পা খাতুন নামের এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছরের শিশু সন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ও র্যাব-৮ যৌথ অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে রাজৈর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ফারুক শিবচর উপজেলার বাখরেরকান্দি এলাকার রতন মোল্লার ছেলে।
এর আগে, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে প্রযুক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত শাম্পা নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শাম্পার বিয়ে হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাম্পার স্বামী একটি মামলায় কারাগারে থাকার সময় মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সঙ্গে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক তাকে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকার নিজের বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে ধর্ষণের পর শাম্পাকে হত্যা করে লাশ জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, শাম্পার এক বছরের শিশু পুত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার কথাও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।
পুলিশ ফারুকের বাড়ি থেকে নিহতের ব্যবহৃত একটি স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা এবং পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ফারুকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে। কয়েক মাস আগেও গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০ আগস্ট শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দীন কাদের শুক্রবার (২১ আগস্ট) জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলছে।
























