ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৩২০ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ আবাসন সংকটে ২০তম এশিয়ান গেমস, বিপাকে আয়োজক জাপান নারীদের স্বাবলম্বী করতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলাবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ বীরগঞ্জে বিপুল সার জব্দ, ম্যানেজারকে ৩ মাসের কারাদণ্ড চেলসিতে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আগামী সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল খুলনায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতার আহ্বান খুলনায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

জাল প্রত্যয়নপত্রে জামিন নিলেন রাজশাহীর মাদক কারবারি আবুল কালাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা ও কুখ্যাত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মামলায় জামিন পেতে জাল প্রত্যয়নপত্র ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ আগস্ট রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার নেতারা তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবুল কালাম আজাদ অনেকটা আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে আসেন। গত ২০ জুলাই পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গোদাগাড়ীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দিনই আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে দাখিল করা জামিনের আবেদনে আবুল কালামের আইনজীবী দুটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর একটিতে গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আনোয়ারুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আনোয়ারুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি তার স্বাক্ষর নয় এবং সিলটিও নকল। তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অপর প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষরকারী পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হানিফ আলী স্বীকার করেছেন যে, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে আবুল কালামের স্ত্রীর অনুরোধে তিনি প্রত্যয়নপত্রটি দিয়েছিলেন, যা এখন একটি ভুল ছিল বলে তিনি মনে করছেন।

আবুল কালাম আজাদের আইনজীবী তৌসিক আহমেদ মাসুমের দাবি, আসামির আত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া কাগজগুলো তিনি সত্যায়ন করে আদালতে জমা দিয়েছেন। তবে প্রত্যয়নপত্রগুলো জাল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে, অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদকে ফোন করা হলে তিনি প্রত্যয়নপত্রের বিষয়ে অসংলগ্ন কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রইসুল ইসলাম এটিকে আদালতের সাথে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আগামী ধার্য তারিখে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদ গত দুই যুগের বেশি সময় ধরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে সাতটি মামলা রয়েছে, যার একটিতে যাবজীবন কারাদণ্ডও হয়েছিল। তবে তার আয়কর নথি ঘেঁটে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, তার টিন নম্বর ৪১২৫৫৩৯৫৪৬৬১। আমদানি-রপ্তানি ও ইটভাটা থেকে বার্ষিক ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আয় দেখিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৭৩০ টাকা। এর আগের অর্থবছরে তিনি কোনো আয়কর দেননি।

গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, আবুল কালাম তাদের দলের সক্রিয় কর্মী নন। পৌর সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল ইসলাম এবং যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বিপ্লব প্রত্যেকেই তাকে প্রত্যয়নপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনে নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করে বিপুল আয়কর দেওয়ার কথা বললেও, তার আয়কর নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন মিঞা জানিয়েছেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

জাল প্রত্যয়নপত্রে জামিন নিলেন রাজশাহীর মাদক কারবারি আবুল কালাম

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা ও কুখ্যাত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মামলায় জামিন পেতে জাল প্রত্যয়নপত্র ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ আগস্ট রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার নেতারা তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবুল কালাম আজাদ অনেকটা আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে আসেন। গত ২০ জুলাই পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গোদাগাড়ীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দিনই আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে দাখিল করা জামিনের আবেদনে আবুল কালামের আইনজীবী দুটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর একটিতে গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আনোয়ারুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আনোয়ারুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি তার স্বাক্ষর নয় এবং সিলটিও নকল। তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অপর প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষরকারী পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হানিফ আলী স্বীকার করেছেন যে, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে আবুল কালামের স্ত্রীর অনুরোধে তিনি প্রত্যয়নপত্রটি দিয়েছিলেন, যা এখন একটি ভুল ছিল বলে তিনি মনে করছেন।

আবুল কালাম আজাদের আইনজীবী তৌসিক আহমেদ মাসুমের দাবি, আসামির আত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া কাগজগুলো তিনি সত্যায়ন করে আদালতে জমা দিয়েছেন। তবে প্রত্যয়নপত্রগুলো জাল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে, অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদকে ফোন করা হলে তিনি প্রত্যয়নপত্রের বিষয়ে অসংলগ্ন কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রইসুল ইসলাম এটিকে আদালতের সাথে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আগামী ধার্য তারিখে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদ গত দুই যুগের বেশি সময় ধরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে সাতটি মামলা রয়েছে, যার একটিতে যাবজীবন কারাদণ্ডও হয়েছিল। তবে তার আয়কর নথি ঘেঁটে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, তার টিন নম্বর ৪১২৫৫৩৯৫৪৬৬১। আমদানি-রপ্তানি ও ইটভাটা থেকে বার্ষিক ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আয় দেখিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৭৩০ টাকা। এর আগের অর্থবছরে তিনি কোনো আয়কর দেননি।

গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, আবুল কালাম তাদের দলের সক্রিয় কর্মী নন। পৌর সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল ইসলাম এবং যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বিপ্লব প্রত্যেকেই তাকে প্রত্যয়নপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনে নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করে বিপুল আয়কর দেওয়ার কথা বললেও, তার আয়কর নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন মিঞা জানিয়েছেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh