ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বুমেরাং হতে পারে: টিআইবি বন্ধ কারখানা চালুর ঋণ বিতরণে মন্দা, বিতরণ মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা আজকের খেলার সূচি: আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ও ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াই প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে ফিরছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজার আয়োজনে মুখরিত দেশজুড়ে মণ্ডপগুলো মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে ৮০ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ৭ বিচ্ছেদের পর প্রকৃতির সান্নিধ্যে শেহতাজ, ভাইরাল নতুন ছবি বগুড়ায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পে সাশ্রয়ের মুখ দেখছেন কৃষকরা

আলবেনিয়ায় ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব: ট্রাম্পের জামাতার বিতর্কিত প্রকল্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার কার্যালয়ের সামনে মানুষের ঢল নামছে। বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। যদিও এই আন্দোলন পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ, তবে বসন্তকালে গণবিক্ষোভ শুরুর পর অনেক পর্যটক আলবেনিয়া ভ্রমণের হোটেল বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় হোটেলকর্মীরা গোপনে জানিয়েছেন, পর্যটকেরা চাইলে প্রতিবাদে যোগ দিলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব’।

এই আন্দোলনের মূলে রয়েছে আলবেনিয়া সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের একটি বিতর্কিত চুক্তি। জ্যারেড কুশনার ও ইভানকা ট্রাম্প আলবেনিয়ার উপকূলের সাজান দ্বীপকে তাদের পর্যটন প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করেন। অথচ দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি ফ্লেমিঙ্গো পাখির জন্য একটি নির্ধারিত প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা। ধনকুবের নাথানিয়েল রথশিল্ডের প্রমোদতরিতে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সঙ্গে কুশনার দম্পতির বৈঠকের পর এই বিলাসবহুল প্রকল্পের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করলে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়, যার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন দক্ষিণাঞ্চল থেকে তিরানায় ছড়িয়ে পড়ে। ফ্লেমিঙ্গো এখন এই আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যা কোথাও কাগজের প্রতিকৃতি আবার কোথাও বিশাল গোলাপি ফোলানো বেলুন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে আলবেনিয়ার পতাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেও দেখা যাচ্ছে, যা তাদের এই বার্তাটি স্পষ্ট করে যে আন্দোলনটি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নয়, বরং দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন কোনো সরকারের দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশ্বের স্বৈরশাসক ও কর্তৃত্ববাদী নেতারা ট্রাম্পের সমর্থনকে আশীর্বাদ মনে করলেও, ট্রাম্পের প্রকাশ্য দুর্নীতি এখন তাদের জন্য নতুন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতারের দেওয়া ট্রাম্পের তথাকথিত ‘উড়ন্ত ঘুষের প্রাসাদ’ বা হীরা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে উপহার গ্রহণের মতো বিষয়গুলো এখন বৈশ্বিক আলোচনায় উঠে আসছে।

২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি দুর্নীতি চর্চা প্রতিরোধ আইন প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং চলতি গ্রীষ্মে করপোরেট স্বচ্ছতা আইন দুর্বল করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই আইনগুলো দুর্বল হওয়ার ফলে অপরাধীদের জন্য কাগুজে কোম্পানির আড়ালে সম্পদ লুকানো সহজ হয়েছে। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা দাবি করেছেন, কুশনার না থাকলে কেউ ফ্লেমিঙ্গো বা আলবেনিয়া নিয়ে মাথা ঘামাত না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়, বরং এটি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরাও রামাকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আলবেনিয়ায় ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব: ট্রাম্পের জামাতার বিতর্কিত প্রকল্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার কার্যালয়ের সামনে মানুষের ঢল নামছে। বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। যদিও এই আন্দোলন পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ, তবে বসন্তকালে গণবিক্ষোভ শুরুর পর অনেক পর্যটক আলবেনিয়া ভ্রমণের হোটেল বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় হোটেলকর্মীরা গোপনে জানিয়েছেন, পর্যটকেরা চাইলে প্রতিবাদে যোগ দিলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব’।

এই আন্দোলনের মূলে রয়েছে আলবেনিয়া সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের একটি বিতর্কিত চুক্তি। জ্যারেড কুশনার ও ইভানকা ট্রাম্প আলবেনিয়ার উপকূলের সাজান দ্বীপকে তাদের পর্যটন প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করেন। অথচ দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি ফ্লেমিঙ্গো পাখির জন্য একটি নির্ধারিত প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা। ধনকুবের নাথানিয়েল রথশিল্ডের প্রমোদতরিতে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সঙ্গে কুশনার দম্পতির বৈঠকের পর এই বিলাসবহুল প্রকল্পের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করলে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়, যার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন দক্ষিণাঞ্চল থেকে তিরানায় ছড়িয়ে পড়ে। ফ্লেমিঙ্গো এখন এই আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যা কোথাও কাগজের প্রতিকৃতি আবার কোথাও বিশাল গোলাপি ফোলানো বেলুন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে আলবেনিয়ার পতাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেও দেখা যাচ্ছে, যা তাদের এই বার্তাটি স্পষ্ট করে যে আন্দোলনটি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নয়, বরং দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন কোনো সরকারের দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশ্বের স্বৈরশাসক ও কর্তৃত্ববাদী নেতারা ট্রাম্পের সমর্থনকে আশীর্বাদ মনে করলেও, ট্রাম্পের প্রকাশ্য দুর্নীতি এখন তাদের জন্য নতুন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতারের দেওয়া ট্রাম্পের তথাকথিত ‘উড়ন্ত ঘুষের প্রাসাদ’ বা হীরা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে উপহার গ্রহণের মতো বিষয়গুলো এখন বৈশ্বিক আলোচনায় উঠে আসছে।

২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি দুর্নীতি চর্চা প্রতিরোধ আইন প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং চলতি গ্রীষ্মে করপোরেট স্বচ্ছতা আইন দুর্বল করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই আইনগুলো দুর্বল হওয়ার ফলে অপরাধীদের জন্য কাগুজে কোম্পানির আড়ালে সম্পদ লুকানো সহজ হয়েছে। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা দাবি করেছেন, কুশনার না থাকলে কেউ ফ্লেমিঙ্গো বা আলবেনিয়া নিয়ে মাথা ঘামাত না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়, বরং এটি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরাও রামাকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo