হার্ভার্ডের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি কুদসিয়া হুদা
- আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজের অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পাঁচজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের কুদসিয়া হুদা। তিনি পাবলিক হেলথ প্র্যাকটিসে লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। প্রতি বছর অ্যালামনাই উইকেন্ডে হার্ভার্ডের এই স্কুলটি তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। এবার ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর এই অ্যালামনাই উইকেন্ড অনুষ্ঠিত হবে।
কুদসিয়া হুদা বর্তমানে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদর দপ্তরে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি এই বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট কুদসিয়া হুদাকে নিয়ে ‘অনেকেই বলেছিল ক্যারিয়ার হবে না, সেই কুদসিয়াই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা বিভাগের প্রধান’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোয়। কর্মজীবনে কঙ্গো, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইয়েমেন, ভারত ও জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক বিপর্যয়ের এলাকায় তিনি ছুটে গিয়েছেন। তাঁর ছুটে চলা জীবনের গল্প শুনেছেন তানজিনা হোসেন। ২০০৪ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ইরানের কেরমান প্রদেশের অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।
কুদসিয়া হুদার ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল প্রতিকূলতায় ভরা। ঢাকার ভিকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও হলিক্রস কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। মেডিকেলে পড়ার সময় বিয়ে এবং সন্তান জন্মের পর ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে ১৯৯১ সালে এমবিবিএস পাসের পর তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগ দিয়ে প্রান্তিক মানুষের সেবা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যান। সেখানে দুই সন্তানকে নিয়ে একা পড়াশোনা ও জীবনযুদ্ধ সামলানোর কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। জনস্বাস্থ্যে পড়াশোনা শেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেন ২০০৪ সালে।
দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় মিসরে থাকাকালীন পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনাও তাঁর জীবনে ঘটেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মানসিক চাপ সামলাতে তিনি লেখালেখি, ধ্যান ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করেন। তাঁর লেখক নাম দীপা ফিরোজ। শাড়ি পরার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ কাজের ক্ষেত্রেও অটুট; এমনকি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও তিনি বাঙালি বেশভূষাতেই হাজির হন।
নিজের কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি স্বামী ও সন্তানদের কথা উল্লেখ করেন। কুদসিয়া হুদা বিশ্বাস করেন, প্রতিবন্ধকতা বা দুর্বলতাগুলোই জীবনের শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নারী হিসেবে তাঁর এই অর্জন জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য এক বড় সাফল্য।





























