ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষা শেষে শুটিংয়ে ফিরলেন অভিনেত্রী মাফতুহা জান্নাত জীম সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি চরমে গ্রিসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত তিন আরোহী বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছয় মাসে নিহত ৩৯ নেতাকর্মী দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৫,০১৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন তারাকান্দায় ট্রান্সফরমার বিকল: দুই মাস ধরে অন্ধকারে দুই গ্রাম দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা ২০২৭ সালের হজের আগাম প্রস্তুতি শুরু করল সৌদি আরব হার্ভার্ডের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি কুদসিয়া হুদা বগুড়ায় সাত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৬ জনের প্রাণহানি

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও স্বার্থের সংকট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতির জায়গা পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বাণিজ্যিক লেনদেন ও তোষামোদ। অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের সরিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেতরের বলয় ও পরিবারের সদস্যরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের নীতিনির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। এর ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থকে পেছনে ফেলে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

নিউ আরবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলে তার ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে গালফ অঞ্চল থেকে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের জামাতা ও অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা জারেড কুশনারের ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’ তহবিলের ৬১৬ কোটি ডলারের ৯৯ শতাংশই এসেছে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে। গবেষকরা ট্রাম্পের এই নব্য-রাজতন্ত্র বা ‘নিও-রয়্যালিজম’কে এক ধরনের দরবার হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে তার দায়িত্বের চেয়ে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় বেশি মনোযোগী মনে হচ্ছে। ফলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের মতো ব্যক্তিরা পেশাদার কূটনীতিকদের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বদলে একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যকার ব্যক্তিগত বোঝাপড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর বড় উদাহরণ ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য নির্ধারণে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’, যেখানে শত কোটি ডলারের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কূটনীতিতে অভিজ্ঞতার অভাবে এই চক্র বড় কোনো সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় সংঘাতের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একইভাবে, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাগজে-কলমে কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা ইসরায়েলকে অবাধে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে বিপুল ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত পররাষ্ট্রনীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার সেই চেনা কাঠামোকে পুরোপুরি স্থানচ্যুত করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও স্বার্থের সংকট

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতির জায়গা পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বাণিজ্যিক লেনদেন ও তোষামোদ। অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের সরিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেতরের বলয় ও পরিবারের সদস্যরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের নীতিনির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। এর ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থকে পেছনে ফেলে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

নিউ আরবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলে তার ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে গালফ অঞ্চল থেকে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের জামাতা ও অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা জারেড কুশনারের ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’ তহবিলের ৬১৬ কোটি ডলারের ৯৯ শতাংশই এসেছে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে। গবেষকরা ট্রাম্পের এই নব্য-রাজতন্ত্র বা ‘নিও-রয়্যালিজম’কে এক ধরনের দরবার হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে তার দায়িত্বের চেয়ে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় বেশি মনোযোগী মনে হচ্ছে। ফলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের মতো ব্যক্তিরা পেশাদার কূটনীতিকদের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বদলে একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যকার ব্যক্তিগত বোঝাপড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর বড় উদাহরণ ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য নির্ধারণে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’, যেখানে শত কোটি ডলারের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কূটনীতিতে অভিজ্ঞতার অভাবে এই চক্র বড় কোনো সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় সংঘাতের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একইভাবে, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাগজে-কলমে কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা ইসরায়েলকে অবাধে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে বিপুল ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত পররাষ্ট্রনীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার সেই চেনা কাঠামোকে পুরোপুরি স্থানচ্যুত করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy