
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতির জায়গা পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বাণিজ্যিক লেনদেন ও তোষামোদ। অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের সরিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেতরের বলয় ও পরিবারের সদস্যরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের নীতিনির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। এর ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থকে পেছনে ফেলে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
নিউ আরবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলে তার ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে গালফ অঞ্চল থেকে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের জামাতা ও অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা জারেড কুশনারের ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’ তহবিলের ৬১৬ কোটি ডলারের ৯৯ শতাংশই এসেছে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে। গবেষকরা ট্রাম্পের এই নব্য-রাজতন্ত্র বা ‘নিও-রয়্যালিজম’কে এক ধরনের দরবার হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে তার দায়িত্বের চেয়ে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় বেশি মনোযোগী মনে হচ্ছে। ফলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের মতো ব্যক্তিরা পেশাদার কূটনীতিকদের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বদলে একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যকার ব্যক্তিগত বোঝাপড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর বড় উদাহরণ ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য নির্ধারণে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’, যেখানে শত কোটি ডলারের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
কূটনীতিতে অভিজ্ঞতার অভাবে এই চক্র বড় কোনো সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় সংঘাতের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একইভাবে, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাগজে-কলমে কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা ইসরায়েলকে অবাধে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে বিপুল ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত পররাষ্ট্রনীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার সেই চেনা কাঠামোকে পুরোপুরি স্থানচ্যুত করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২