সীতাকুণ্ডে জাহাজ দুর্ঘটনায় কেন এখনো তদন্ত শুরু করতে পারেনি কমিটি
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর তিন দিন পেরিয়ে গেছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো কমিটির সদস্যই দুর্ঘটনাস্থল জাহাজের কাছে যেতে পারেননি।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানিয়েছেন, জাহাজের ভেতরে গ্যাসের তীব্রতা এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায় তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম শিল্প মন্ত্রণালয়কে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তর ঘটনাস্থলে কাজ করলেও গ্যাসের সুনির্দিষ্ট উৎস ও লিকেজের কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও সেখানে অন্য কোনো গ্যাস বা কী পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে, তা জানা সম্ভব না হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করাও ছিল দুঃসাধ্য।
এই পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয় বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। রবিবার সন্ধ্যায় এই কমিটি গঠনের অফিস আদেশ জারি করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স। এই কমিটিতে বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমদ ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খানসহ মোট আটজন রয়েছেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঘটনার দিন গত শুক্রবার শিল্প মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হককে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার আরও জানান, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী ও অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ দলের পাশাপাশি জাহাজটিকে গ্যাসমুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক মানের কোনো বেসরকারি কোম্পানিকে নিয়োগের চিন্তাভাবনা চলছে। সোমবার বুয়েটের অধ্যাপকের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দলটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ওই ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক শুভ জলদাসের ভাষ্যমতে, জাহাজের এলএনজি ট্যাংক কাটার সময় সেখান থেকেই বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল।
























