ডেঙ্গু শক সিনড্রোম: ভয়াবহতা ও প্রতিরোধের কার্যকরী উপায়
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে আবারো ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও ডেঙ্গু নিজে কোনো প্রাণঘাতী রোগ নয়, তবে গত কয়েক বছরে এর প্রভাবে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এটি এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়ম মেনে চললে এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সাথে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হলে এই জটিলতা দেখা দেয়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হওয়া, শরীরের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাব কমে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে রোগী হঠাৎ জ্ঞান হারাতে পারেন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা। মনে রাখতে হবে, এডিস মশা মূলত অভিজাত এলাকার পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে, তবে ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানিতেও এদের বংশবিস্তার হতে পারে।
বাড়ির চারপাশ, ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখতে হবে।ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত টায়ার সরিয়ে ফেলতে হবে।পানির ট্যাংক, ফুলের টব, এসি, ফ্রিজ বা অ্যাকুরিয়ামের নিচে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বাথরুমে জমানো পানি ৫ দিনের বেশি রাখা যাবে না।দিনের বেলা শরীর ঢেকে পোশাক পরতে হবে এবং প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। দরজা-জানালায় নেট লাগানো জরুরি।দিনের বেলা ঘুমালে মশারি বা কয়েল ব্যবহার করতে হবে। শিশুদের স্কুলে হাফপ্যান্টের বদলে ফুল প্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে পাঠাতে হবে।ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির ভেতর রাখতে হবে যাতে মশা তাকে কামড়াতে না পারে।এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। যেহেতু আমাদের দেশে মশার প্রজননের পরিবেশ বিদ্যমান, তাই সচেতনতাই বাঁচার একমাত্র পথ। পরামর্শ দিয়েছেন ডা. এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা (ফোন: ০১৭৮৭১০৬৭০২)।





























