শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত
- আপডেট সময় : ১২:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির আদালত। ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কোনো আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, ভারতের প্রচলিত আইনে সেগুলো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই অনুরোধ বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতের ১৯৪২ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর আদালত তা তদন্তের দায়িত্ব ম্যাজিস্ট্রেটকে দিতে পারেন। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যর্পণের সুপারিশ করবেন, অন্যথায় অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২০১৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিচারিকভাবে দণ্ডিত হলে বা বিচারের মুখোমুখি থাকলে প্রত্যর্পণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। যদিও রাজনৈতিক অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকে, তবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো ১২টি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক হিসেবে গণ্য না করার বিধান রয়েছে।
এদিকে, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই তিনি দেশে ফিরতে চান। বর্তমানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে এ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের প্রত্যর্পণ আইন-১৯৬২ অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন; আর যথেষ্ট ভিত্তি না থাকলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার পর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি আরো জোরালো করেছে ঢাকা। হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

























