ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক চলাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় ছিল, তখনই তারা নিজেদের প্রথম শ্রেণির এবং অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করত। তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক জোকার বা পলিটিক্যাল ক্লাউন হলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কারণ তার বিভিন্ন সময়ের কথাবার্তা কোনো রাজনৈতিক নেতাসুলভ নয়।’
আমিনুল ইসলাম আরও যোগ করেন যে, ওবায়দুল কাদেরকে সবাই ‘টিকটকার’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং টিকটকাররা তার বক্তব্য ব্যবহার করেন। প্রসিকিউটরের দাবি, ওবায়দুল কাদেরের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণেই জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী আসামিদের প্রসঙ্গে প্রসিকিউশন জানায়, তারাও একই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছেন। আসামিদের দুর্বৃত্তপরায়ণ, দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতকারী হিসেবে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তারা প্রত্যেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। তাদের ব্যক্তিগত দায় ও সুপিরিয়র কমান্ডের দায় রয়েছে।’ প্রসিকিউশন মামলার সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে দাবি করে সাত আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে তাদের মতো এমন দুষ্কৃতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ আর ফিরে না আসুক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন দুর্বৃত্তপরায়ণ রাজনীতিবিদ ভবিষ্যতে আবারও জন্ম নেবে।’ ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মামলার অন্য পলাতক আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালত প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন এবং গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ৪ আগস্ট থেকে এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং সহিংসতা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছেন, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।



























