ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুরে ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় বাংলাদেশ: আমরা কি প্রস্তুত নাকি কেবলই কল্পনা? নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্ত আম্বানির নিয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক অক্টোবরের মধ্যেই জিয়াউলের গুম মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের আশা দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে চিরিরবন্দরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, বিজয় সুসংহত করতে হবে: ইরানি সেনাপ্রধান আল্লাহর বিধান ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব: মিয়া গোলাম পরওয়ার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: ন্যায়বিচার পাবেন বললেন রাশেদ খাঁন অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাজার মতো যুদ্ধের উস্কানি দিলেন স্মোটরিচ সরকার বা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে রেহাই নেই: মাহদী আমিন

এসএসসির ফল ঘিরে বাঁধভাঙা আনন্দ, উচ্ছ্বাসে ভাসছে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ফল প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা ড্রাম বাজিয়ে, স্লোগান তুলে এবং দলবেঁধে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। এ সময় মোবাইল ফোনে ছবি তোলা এবং ফেসবুকে লাইভ করার হিড়িক পড়ে যায়।

সকাল ১০টায় অনলাইনে ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। ড্রামের তালে তালে নাচ-গান, মিষ্টি বিতরণ এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তারা আনন্দ উদযাপন করেন। মুঠোফোনে সেলফি তুলে নিজেদের ভালো ফলাফলের কথা শেয়ার করার এমন চিত্র দেখা গেছে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই।

তবে আনন্দের পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থীর চোখে ছিল জল। হলিক্রস স্কুলের শিক্ষার্থী ফারজানা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। তার মা তনিমা খাতুন জানান, ফারজানা ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষায় ফেল করেছেন। ফারজানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এ দুটি পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, তবে ফেল করব কল্পনাও করিনি।”

রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ড্রামের তালে তালে নেচে-গেয়ে ভালো ফলাফলের সাফল্য উদযাপন করে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৭.৯৭ শতাংশে। ২,১২৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২,০৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১,১১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া নার্গিস জুঁই তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “ভালো রেজাল্ট করার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। রাত জেগে পড়াশোনা করতাম, দিনের বেলায়ও দুপুরে না ঘুমিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমার আম্মুও রাত জেগে বসে থাকতেন আমার সঙ্গে। আমি জিপিএ-৫ পাওয়ায় আব্বু-আম্মু অনেক খুশি হয়েছেন। তাদের খুশি করতে পেরেছি, আমার অক্লান্ত পরিশ্রম কাজে লেগেছে—এজন্য ভীষণ ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও এ ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”

আরেক শিক্ষার্থী নাবিলা জান্নাত ফল প্রকাশের আগে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, কারণ উচ্চতর গণিতে ইংলিশ মিডিয়ামের প্রশ্নপত্রের ১২ নম্বরটি ভুল ছিল। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ায় তিনি অনেক খুশি। নাবিলা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন এবং আপাতত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেই এইচএসসি শেষ করতে চান। জিপিএ-৫ পাওয়া আরশি আলমগীর খান প্রথমে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেও পরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। আমার জিপিএ-৫ এসেছে। সবার আগে সৃষ্টিকর্তার দয়া, এরপর বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। আমার চেষ্টা আর তাদের সহযোগিতা পেয়েছি বলেই এমন আশানুরূপ ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছি।” রাহির মা মনিরা বেগম মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে তার ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য দোয়া করেন।

সোমবার তেজগাঁওয়ের হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়েও আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। দুপুর ১২টার পর হলিক্রস কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বন্ধু-বান্ধব ও অভিভাবকদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। হলিক্রস গার্লস হাইস্কুলে এবার এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা জানান, তার স্কুল বরাবরই ভালো ফলাফল করে এবং নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার ফলেই প্রতিবারই তারা ভালো রেজাল্ট করতে সক্ষম হয়।

দুপুরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে ছুটে আসে। স্কুলের স্কাউট সদস্যরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাদের বরণ করে নেয়। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া সাদি আল তাসবির ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চান। গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া জারিফ হাসান তার মা তাহমিনাকে নিয়ে কলেজে আসেন এবং জানান যে তিনি গোছানোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। একইভাবে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া তাহমিদ হাসান তার বাবা ডা. কুদরতে হাসান রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে সৃষ্টিকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২,৭২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং পাসের হার ৯৮.০২ শতাংশ। ১,৪৯০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখা এবং বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম মিলিয়ে মোট ২,৭৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সন্তানদের সাফল্যে অভিভাবকরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ডা. কুদরতে হাসান রুবেল জানান, সকালের দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুশ্চিন্তা ফল প্রকাশের পর এক মুহূর্তে আনন্দ ও স্বস্তিতে বদলে গেছে। আরেক অভিভাবক নাসরিন বলেন, সন্তানদের দিনরাতের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই এ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন কলেজের সুবিশাল প্রাঙ্গণেও আনন্দের জোয়ার নামে। এ বছর এ কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ১,৪৯৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং ১,৪৮৮ জন পাস করে। মাইলস্টোন কলেজে পাসের হার ৯৯.৬৭ শতাংশ, যা সারা দেশের পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং ঢাকা বোর্ডের পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। সফলদের মধ্যে ৬১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভিভাবকরা মাইলস্টোন কলেজের একাডেমিক পরিবেশ এবং অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের আন্তরিক পরিচর্যার জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।

চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজও প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৬৫১ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার পাসের হার ৯৯.৬৯ শতাংশ। ৪০০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৬১.৪৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞ বোর্ড অব গভর্নরস, সুদক্ষ অধ্যক্ষের দিকনির্দেশনা, গ্রুপটিচার ব্যবস্থা, পাঠোন্নতির নিয়মিত মনিটরিং এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত শ্রেণি পাঠদান এই অসাধারণ সাফল্যের মূলে রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুপুর ১টা ১০ মিনিটে স্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। তিনি জানান, এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২,৭২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং পাসের হার ৯৮.০২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১,৪৯০ জন। প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখা এবং বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম মিলিয়ে এবার মোট ২,৭৮২ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নেয় ২,৭৭৮ জন। অনুপস্থিত ছিল চারজন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২,৫৪১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছিল ২৪১ জন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

এসএসসির ফল ঘিরে বাঁধভাঙা আনন্দ, উচ্ছ্বাসে ভাসছে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ফল প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা ড্রাম বাজিয়ে, স্লোগান তুলে এবং দলবেঁধে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। এ সময় মোবাইল ফোনে ছবি তোলা এবং ফেসবুকে লাইভ করার হিড়িক পড়ে যায়।

সকাল ১০টায় অনলাইনে ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। ড্রামের তালে তালে নাচ-গান, মিষ্টি বিতরণ এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তারা আনন্দ উদযাপন করেন। মুঠোফোনে সেলফি তুলে নিজেদের ভালো ফলাফলের কথা শেয়ার করার এমন চিত্র দেখা গেছে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই।

তবে আনন্দের পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থীর চোখে ছিল জল। হলিক্রস স্কুলের শিক্ষার্থী ফারজানা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। তার মা তনিমা খাতুন জানান, ফারজানা ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষায় ফেল করেছেন। ফারজানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এ দুটি পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, তবে ফেল করব কল্পনাও করিনি।”

রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ড্রামের তালে তালে নেচে-গেয়ে ভালো ফলাফলের সাফল্য উদযাপন করে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৭.৯৭ শতাংশে। ২,১২৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২,০৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১,১১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া নার্গিস জুঁই তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “ভালো রেজাল্ট করার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। রাত জেগে পড়াশোনা করতাম, দিনের বেলায়ও দুপুরে না ঘুমিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমার আম্মুও রাত জেগে বসে থাকতেন আমার সঙ্গে। আমি জিপিএ-৫ পাওয়ায় আব্বু-আম্মু অনেক খুশি হয়েছেন। তাদের খুশি করতে পেরেছি, আমার অক্লান্ত পরিশ্রম কাজে লেগেছে—এজন্য ভীষণ ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও এ ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”

আরেক শিক্ষার্থী নাবিলা জান্নাত ফল প্রকাশের আগে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, কারণ উচ্চতর গণিতে ইংলিশ মিডিয়ামের প্রশ্নপত্রের ১২ নম্বরটি ভুল ছিল। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ায় তিনি অনেক খুশি। নাবিলা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন এবং আপাতত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেই এইচএসসি শেষ করতে চান। জিপিএ-৫ পাওয়া আরশি আলমগীর খান প্রথমে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেও পরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। আমার জিপিএ-৫ এসেছে। সবার আগে সৃষ্টিকর্তার দয়া, এরপর বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। আমার চেষ্টা আর তাদের সহযোগিতা পেয়েছি বলেই এমন আশানুরূপ ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছি।” রাহির মা মনিরা বেগম মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে তার ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য দোয়া করেন।

সোমবার তেজগাঁওয়ের হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়েও আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। দুপুর ১২টার পর হলিক্রস কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বন্ধু-বান্ধব ও অভিভাবকদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। হলিক্রস গার্লস হাইস্কুলে এবার এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা জানান, তার স্কুল বরাবরই ভালো ফলাফল করে এবং নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার ফলেই প্রতিবারই তারা ভালো রেজাল্ট করতে সক্ষম হয়।

দুপুরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে ছুটে আসে। স্কুলের স্কাউট সদস্যরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাদের বরণ করে নেয়। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া সাদি আল তাসবির ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চান। গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া জারিফ হাসান তার মা তাহমিনাকে নিয়ে কলেজে আসেন এবং জানান যে তিনি গোছানোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। একইভাবে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া তাহমিদ হাসান তার বাবা ডা. কুদরতে হাসান রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে সৃষ্টিকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২,৭২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং পাসের হার ৯৮.০২ শতাংশ। ১,৪৯০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখা এবং বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম মিলিয়ে মোট ২,৭৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সন্তানদের সাফল্যে অভিভাবকরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ডা. কুদরতে হাসান রুবেল জানান, সকালের দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুশ্চিন্তা ফল প্রকাশের পর এক মুহূর্তে আনন্দ ও স্বস্তিতে বদলে গেছে। আরেক অভিভাবক নাসরিন বলেন, সন্তানদের দিনরাতের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই এ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন কলেজের সুবিশাল প্রাঙ্গণেও আনন্দের জোয়ার নামে। এ বছর এ কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ১,৪৯৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং ১,৪৮৮ জন পাস করে। মাইলস্টোন কলেজে পাসের হার ৯৯.৬৭ শতাংশ, যা সারা দেশের পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং ঢাকা বোর্ডের পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। সফলদের মধ্যে ৬১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভিভাবকরা মাইলস্টোন কলেজের একাডেমিক পরিবেশ এবং অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের আন্তরিক পরিচর্যার জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।

চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজও প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৬৫১ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার পাসের হার ৯৯.৬৯ শতাংশ। ৪০০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৬১.৪৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞ বোর্ড অব গভর্নরস, সুদক্ষ অধ্যক্ষের দিকনির্দেশনা, গ্রুপটিচার ব্যবস্থা, পাঠোন্নতির নিয়মিত মনিটরিং এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত শ্রেণি পাঠদান এই অসাধারণ সাফল্যের মূলে রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুপুর ১টা ১০ মিনিটে স্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। তিনি জানান, এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২,৭২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং পাসের হার ৯৮.০২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১,৪৯০ জন। প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখা এবং বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম মিলিয়ে এবার মোট ২,৭৮২ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নেয় ২,৭৭৮ জন। অনুপস্থিত ছিল চারজন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২,৫৪১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছিল ২৪১ জন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh