ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার নির্দেশ, বাধা নেই ভ্রমণে সারাদেশে পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ইয়েমেনের আল-মাশিক প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ২ পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জবিতে গরু নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল মেসি পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ কারা সাতক্ষীরায় ফেসবুক লাইভ করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা গাজীপুরে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মাদক কারবারিদের হামলা, আহত ২ নোবিপ্রবির পুরো ক্যাম্পাস সৌরবিদ্যুৎ চালুর পরিকল্পনা প্রতি তিন মাস পর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির তথ্য নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

হাসিনাকে ফেরাতে ৪০৪ শিক্ষকের তৎপরতা, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উপাচার্যের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের যে গোপন তৎপরতা চলছে, তা প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এটি প্রতিহিংসা নয়, বরং অপরাধের বিচার। কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের মাধ্যমে তার বিচার করবেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের ওপর নজরদারি চালানো হতো। সাদা দলের সভায় আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতেন না। এমনকি শিক্ষকদের তালিকা করে তাদের হুমকি দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, আমরা থেমে যাইনি। কথা বলেছি, রাজপথে নেমেছি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, অবস্থান নিয়েছি এবং ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ আমরা যদি সেই বিষয়গুলো ভুলে যাই, তাহলে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা ১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈষম্যহীন সমাজের দাবিকে শিক্ষকরা নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন গণহত্যা চালিয়েছিল, ২০২৪ সালেও সরকারপ্রধান দেশের মানুষের ওপর একই ধরনের নির্যাতন চালিয়েছেন। তবে ১৯৭১ সালে আমরা রাষ্ট্র পেয়েছি, আর ২০২৪ সালে স্বাধীনতা ও পতাকার মর্যাদা রক্ষার নতুন প্রত্যয় পেয়েছি।

বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ১৭ বছরের অনিয়ম ও অন্যায়ের সমাধান মাত্র পাঁচ মাসে সম্ভব নয়। নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন বা স্বৈরাচার রাখা যাবে না। ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসিনাকে ফেরাতে ৪০৪ শিক্ষকের তৎপরতা, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উপাচার্যের

আপডেট সময় : ১০:০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের যে গোপন তৎপরতা চলছে, তা প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এটি প্রতিহিংসা নয়, বরং অপরাধের বিচার। কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের মাধ্যমে তার বিচার করবেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের ওপর নজরদারি চালানো হতো। সাদা দলের সভায় আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতেন না। এমনকি শিক্ষকদের তালিকা করে তাদের হুমকি দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, আমরা থেমে যাইনি। কথা বলেছি, রাজপথে নেমেছি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, অবস্থান নিয়েছি এবং ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ আমরা যদি সেই বিষয়গুলো ভুলে যাই, তাহলে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা ১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈষম্যহীন সমাজের দাবিকে শিক্ষকরা নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন গণহত্যা চালিয়েছিল, ২০২৪ সালেও সরকারপ্রধান দেশের মানুষের ওপর একই ধরনের নির্যাতন চালিয়েছেন। তবে ১৯৭১ সালে আমরা রাষ্ট্র পেয়েছি, আর ২০২৪ সালে স্বাধীনতা ও পতাকার মর্যাদা রক্ষার নতুন প্রত্যয় পেয়েছি।

বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ১৭ বছরের অনিয়ম ও অন্যায়ের সমাধান মাত্র পাঁচ মাসে সম্ভব নয়। নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন বা স্বৈরাচার রাখা যাবে না। ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor