ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে ব্রুনাইয়ের হাইকমিশনারের বৈঠক শিশু নাফিস অপহরণ মামলার আসামির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন তিন দিনে ১১৯ কোটি রুপি আয় করে রেকর্ড গড়ল ‘দ্য প্যারাডাইস’ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: জমি নিয়ে বিবাদের ইঙ্গিত পুলিশের সুনামগঞ্জের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হলেন এমদাদুল হক আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর সায়েন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, যান চলাচল বিঘ্নিত কটিয়াদীতে ডিউটিরত অবস্থায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল আহত দুর্ঘটনা না ঘটলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: জ্বালানি মন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দিল্লিতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতির দায় প্রতিবেশী দেশ ভারত কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। ভারতকে স্পষ্ট করতে হবে তারা বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার এসব বক্তব্য সমর্থন করে কি না।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে ভারতকে একই সময়ে শেখ হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে সুসম্পর্ক আশা করা পরস্পরবিরোধী।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারত যদি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে তারা বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সমর্থন করে না, তবে বাংলাদেশ তা গ্রহণ করবে। তবে একজন সাবেক স্বৈরশাসক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারতের মাটিতে বসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন গণতন্ত্রবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাকে ভারত কীভাবে democratic সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে? শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট ও দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীতে শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ভারতকে বাংলাদেশ যা দিয়েছে তা তারা চিরকাল মনে রাখবে। সম্ভবত সেই সম্পর্কের ‘পারস্পরিক প্রতিদান’ হিসেবেই তাকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতারা যেখানে দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছেন, সেখানে শেখ হাসিনা সরাসরি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই আন্দোলনকে কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে দেখলে দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে। এটি কোনো ‘নিউটনের আপেল’ নয় যা নিজে থেকেই গাছ থেকে পড়ে গেছে। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক political আন্দোলনের ফসল হচ্ছে ৫ আগস্টের বিজয়। তাই শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলনের মাপকাঠিতে পুরো সংগ্রামকে মূল্যায়ন করা রাজনৈতিক অপরিপক্বতার লক্ষণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনা, এটি কোনো প্রচলিত সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিপ্লব ছিল না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দিল্লিতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতির দায় প্রতিবেশী দেশ ভারত কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। ভারতকে স্পষ্ট করতে হবে তারা বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার এসব বক্তব্য সমর্থন করে কি না।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে ভারতকে একই সময়ে শেখ হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে সুসম্পর্ক আশা করা পরস্পরবিরোধী।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারত যদি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে তারা বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সমর্থন করে না, তবে বাংলাদেশ তা গ্রহণ করবে। তবে একজন সাবেক স্বৈরশাসক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারতের মাটিতে বসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন গণতন্ত্রবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাকে ভারত কীভাবে democratic সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে? শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট ও দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীতে শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ভারতকে বাংলাদেশ যা দিয়েছে তা তারা চিরকাল মনে রাখবে। সম্ভবত সেই সম্পর্কের ‘পারস্পরিক প্রতিদান’ হিসেবেই তাকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতারা যেখানে দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছেন, সেখানে শেখ হাসিনা সরাসরি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই আন্দোলনকে কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে দেখলে দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে। এটি কোনো ‘নিউটনের আপেল’ নয় যা নিজে থেকেই গাছ থেকে পড়ে গেছে। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক political আন্দোলনের ফসল হচ্ছে ৫ আগস্টের বিজয়। তাই শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলনের মাপকাঠিতে পুরো সংগ্রামকে মূল্যায়ন করা রাজনৈতিক অপরিপক্বতার লক্ষণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনা, এটি কোনো প্রচলিত সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিপ্লব ছিল না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin