ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে ‘সারের সংকট নেই’ দাবি করা সেই কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ সরকারিভাবে ব্রুনেইয়ে ২৭৯ কর্মী নেবে বোয়েসেল জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই বাজারে সরবরাহ সংকট, পণ্য দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো লিভারপুলে চুক্তি নিয়ে সুর নরম করলেন ম্যাক আলিস্টার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে: এডিবি এশিয়ান গেমসে সাইক্লিং থেকে ছিটকে গেলেন সবুর ও শাহাদাত বান্দরবানের দুর্গম পাহাড় থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র রাতুল উদ্ধার জ্বালানি তেল থেকে ১০ বছরে সরকারের ঘরে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা দেশের ৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তির একমাত্র পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান: জাতিসংঘ মহাসচিব

স্মার্টফোনের ব্যাটারি সমস্যার সমাধানে নতুন সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



স্মার্টফোনের ব্যাটারি নিয়ে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কম ব্যাকআপ, দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া এবং চার্জ হতে অতিরিক্ত সময় লাগা। এসব সমস্যার সমাধানে বর্তমানে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি। বিশেষ করে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতাদের পাশাপাশি স্যামসাংয়ের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো এই প্রযুক্তি গ্রহণ করায় বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অ্যানোডে সাধারণত গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তিতে গ্রাফাইটের পরিবর্তে সিলিকন যুক্ত করা হয়, যা একই আয়তনে অনেক বেশি লিথিয়াম আয়ন ধরে রাখতে সক্ষম। শিল্পবিশ্লেষণ ও গবেষণা অনুযায়ী, তাত্ত্বিকভাবে সিলিকনের শক্তি ধারণক্ষমতা গ্রাফাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তবে ব্যাটারির অ্যানোড পুরোপুরি সিলিকন দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ চার্জ গ্রহণের সময় সিলিকনের আয়তন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ব্যাটারির কাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রাফাইটের সঙ্গে সিলিকন বা সিলিকন-কার্বন কম্পোজিট মিশিয়ে একটি ভারসাম্য তৈরি করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় সিলিকনের অতিরিক্ত প্রসারণ এবং ব্যাটারির 'সাইকেল লাইফ' বা স্থায়িত্বকে প্রধান প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্যামসাং তাদের নতুন প্রজন্মের ফোল্ডেবল ফোনে সিলিকন-কার্বন অ্যানোড ব্যবহার করে ব্যাটারির শক্তি ঘনত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে ওয়ানপ্লাস, অনার, অপো এবং শাওমির মতো নির্মাতারা পাতলা ডিজাইনের ফোনে বড় ধারণক্ষমতার ব্যাটারি নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করছে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একই আকারের ব্যাটারিতে চার্জের পরিমাণ বাড়ানো, দ্রুত চার্জিং সুবিধা এবং ফোনকে আরও পাতলা রাখার সুযোগ। ফলে ভবিষ্যতে স্মার্টফোন একবার চার্জে দুই দিন পর্যন্ত ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে উৎপাদন জটিলতা, তুলনামূলক বেশি খরচ এবং সিলিকনের প্রসারণজনিত ক্ষয় এখনো বড় বাধা। যদিও সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি ব্যাটারি সমস্যার শতভাগ স্থায়ী সমাধান নয়, তবুও এটি ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ও চার্জিং অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তনের অন্যতম সম্ভাবনাময় পথ হিসেবে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

স্মার্টফোনের ব্যাটারি সমস্যার সমাধানে নতুন সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি

আপডেট সময় : ০১:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

স্মার্টফোনের ব্যাটারি নিয়ে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কম ব্যাকআপ, দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া এবং চার্জ হতে অতিরিক্ত সময় লাগা। এসব সমস্যার সমাধানে বর্তমানে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি। বিশেষ করে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতাদের পাশাপাশি স্যামসাংয়ের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো এই প্রযুক্তি গ্রহণ করায় বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অ্যানোডে সাধারণত গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তিতে গ্রাফাইটের পরিবর্তে সিলিকন যুক্ত করা হয়, যা একই আয়তনে অনেক বেশি লিথিয়াম আয়ন ধরে রাখতে সক্ষম। শিল্পবিশ্লেষণ ও গবেষণা অনুযায়ী, তাত্ত্বিকভাবে সিলিকনের শক্তি ধারণক্ষমতা গ্রাফাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তবে ব্যাটারির অ্যানোড পুরোপুরি সিলিকন দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ চার্জ গ্রহণের সময় সিলিকনের আয়তন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ব্যাটারির কাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে গ্রাফাইটের সঙ্গে সিলিকন বা সিলিকন-কার্বন কম্পোজিট মিশিয়ে একটি ভারসাম্য তৈরি করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় সিলিকনের অতিরিক্ত প্রসারণ এবং ব্যাটারির 'সাইকেল লাইফ' বা স্থায়িত্বকে প্রধান প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্যামসাং তাদের নতুন প্রজন্মের ফোল্ডেবল ফোনে সিলিকন-কার্বন অ্যানোড ব্যবহার করে ব্যাটারির শক্তি ঘনত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে ওয়ানপ্লাস, অনার, অপো এবং শাওমির মতো নির্মাতারা পাতলা ডিজাইনের ফোনে বড় ধারণক্ষমতার ব্যাটারি নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করছে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একই আকারের ব্যাটারিতে চার্জের পরিমাণ বাড়ানো, দ্রুত চার্জিং সুবিধা এবং ফোনকে আরও পাতলা রাখার সুযোগ। ফলে ভবিষ্যতে স্মার্টফোন একবার চার্জে দুই দিন পর্যন্ত ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে উৎপাদন জটিলতা, তুলনামূলক বেশি খরচ এবং সিলিকনের প্রসারণজনিত ক্ষয় এখনো বড় বাধা। যদিও সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি ব্যাটারি সমস্যার শতভাগ স্থায়ী সমাধান নয়, তবুও এটি ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ও চার্জিং অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তনের অন্যতম সম্ভাবনাময় পথ হিসেবে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh